ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের ডিআইজি (অপারেশন পূর্ব) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, মহাসড়কের চুরি ছিনতাই ডাকাতি প্রতিরোধ করতেই হাইওয়ে পুলিশের জন্ম হয়েছিল। মানুষের জন্যই পুলিশ। তাই এখন পুলিশের কাজের পরিধি বেড়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশ আর নেই। মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড মোড়, কুট্রাপাড়া সহ সব জায়গা থেকে অবৈধ দখলদাররা চলে যেতে হবে। শিশু চালক ও নিবন্ধন বিহীন যানবাহনের বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিবন্ধন বিহীন মোটরবাইক গুলো অনেক অপরাধের সাথে জড়িত। মাদক পরিবহন ও যাত্রীবেশে ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে প্রত্যেকটি ষ্ট্যান্ডের নেতৃবৃন্দ আপনাদের চালকদের নাম ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করবেন। তাদেরকে পরিচয়পত্র দিবেন। এই জেলার মানুষ গুলো ঐক্যবদ্ধ থাকেন। মহিলা কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মাহবুব খানসহ কয়েকজনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ডিআইজি বলেন, পূর্বের নাম খাঁটিহাতা থাকলেও এই থানাটির বর্তমান অবস্থান মহাসড়কের সরাইলে। তাই দ্রূততম সময়ের মধ্যেই নাম পরিবর্তন করে সরাইল/কুট্রাপাড়া হাইওয়ে থানা করার ঘোষণা দিয়েছেন ডিআইজ। তিনি বলেন, সকল সমস্যা সমাধান করে নিরাপদ সুশৃঙ্খল মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে সমাজের সকলের সহযোগিতা চাই। গতকাল হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে কুট্রাপাড়া এলাকার থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোল্লেখিত কথা গুলো বলেছেন ডিআইজি। সভায় সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকার নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার আ: রউফ, ফোরলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. শামীম আহমেদ, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন আকন্দ, জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা আবু আসিফ আহমেদ, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর, জামায়াতের সভাপতি মো. এনাম খাঁন, দৈনিক বাঙালীর কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মেহেরূন নিছা মেহেরিন, এনসিপি’র সমন্বয়ক মো. মোবারক হোসেন, সাংবাদিক মো. শরীফ উদ্দিন, সমাজসেবক মীর আনোয়ার আলী, শ্রমিক নেতা মো. ইমরান ও মজনু মিয়া। বক্তারা পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে থানার অবকাঠামোগত ও জীবনমানের উন্নয়ন, থানা চত্বরে বিশ্রামের ব্যবস্থা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গাড়ি, রোগী বহনকারী অ্যাম্বোলেন্স, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবী জানান।