আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে লালপুর উপজেলার গৌরীপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা ও দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।” এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সব ধরনের বিভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ডা. রাজন আরও বলেন, “লালপুরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, তা অব্যাহত থাকবে। আমি আপনাদের ছেড়ে যাচ্ছি না। আমি আপনাদের সাথেই আছি এবং আমৃত্যু আপনাদের সন্তান ‘রাজন’ হিসেবেই থাকতে চাই।” তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা তাঁর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তাঁদের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দলের হাইকমান্ডের কাছে তিনি তাঁর এলাকার নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের বড় ছেলে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, কন্যা ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এবং বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি থেকে প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের ছোট কন্যা ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপরও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন ও তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও দাখিল করেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তাঁরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন। তবে নাটোর-১ আসনে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য দলের মোট আটজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।