সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে ২০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ থাকলেও শেষ দিনে তিনজন তাঁদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। সূত্র জানায়, জেলার ৪টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে জমা পড়েছিল ২৯টি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২৩-এ। মঙ্গলবার ৩ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় এখন ১৯ জন দলীয় ও একজন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীসহ মোট ২০ জন ভোটের মাঠে থাকলেন। আসনভিত্তিক প্রার্থীদের চিত্র ও প্রতীক: সাতক্ষীরা-১: এ আসনে কোনো প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করেননি। এখানে লড়ছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি-ধানের শীষ), মো. ইজ্জতুল্লাহ (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), জিয়াউর রহমান (জাতীয় পার্টি-লাঙ্গল) এবং অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস-ডাব)। সাতক্ষীরা-২: এলডিপি ও এবি পার্টির প্রার্থীরা সরে দাঁড়ানোয় এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন-আব্দুর রউফ (বিএনপি-ধানের শীষ), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা), আশরাফুজ্জামান (জাতীয় পার্টি-লাঙ্গল), ইদ্রিস আলী (বাংলাদেশ জাসদ-মোটরগাড়ি) ও মুফতী রবিউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা)। সাতক্ষীরা-৩: এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের (ধানের শীষ) পাশাপাশি ভোটের মাঠে থেকে গেছেন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল)। এ ছাড়া লড়ছেন হাফেজ রবিউল বাশার (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা), আলিপ হোসেন (জাতীয় পার্টি-লাঙ্গল), ওয়েজ কুরনী (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা) ও রুবেল হোসেন (বিএমজেপি-রকেট)। সাতক্ষীরা-৪: গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এখানে প্রার্থীর সংখ্যা চারজন। তাঁরা হলেন-ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (বিএনপি-ধানের শীষ), জিএম নজরুল ইসলাম (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা), আব্দুর রশীদ (জাতীয় পার্টি-লাঙ্গল) এবং এইচ এম মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দলগুলোর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সবকটি আসনে থাকায় ভোটের লড়াই জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম দলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।