বিপিএল ট্রফি জিতে মাঠে ছিল আনন্দের জোয়ার, তবে সেই উচ্ছ্বাসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে গভীর এক অনিশ্চয়তা। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে প্রথমবারের মতো বিপিএল শিরোপা এনে দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্তের চোখেমুখে হাসি থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথাও গোপন থাকেনি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি জটিলতা, সামনে খেলার সূচি অনিশ্চিত হওয়া এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের সংকট তাকে ভাবাচ্ছে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএল ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত খোলাখুলিভাবেই নিজের অবস্থান জানান। ট্রফি সামনে রেখে তিনি বলেন, “চিন্তা তো একটু হয়। অবশ্যই চিন্তা হয়। ভবিষ্যৎ তো আমরা কেউই জানি না। খেলোয়াড় হিসেবে চিন্তা একটু হচ্ছে। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই।” কথাগুলো বলার সময় কণ্ঠে ছিল বাস্তবতার ভার।
এই অনিশ্চয়তার বড় কারণ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ সেখানে খেলবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিসিবি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যেতে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনাগ্রহের কথা আইসিসিকে জানায় রবিবার (৪ জানুয়ারি)। শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ গ্রহণ না হওয়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়। মাঠের বাইরে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ক্রিকেটারদের ওপর।
শান্তের কথায় সেই চাপ স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ের পরিবেশ মাঠের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষায়, “গত এক দেড় বছরে যেভাবে আমাদের ক্রিকেটটা চলছে, বিশেষত বাইরে যে ধরনের পরিবেশ, এটা আমাদের মাঠের ক্রিকেটে অনেক ব্যাহত করছে।” বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট যেন নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে চলতে পারে, সেটাই সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্বকাপে খেলা না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, সেটাও মনে করিয়ে দেন টেস্ট অধিনায়ক। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটানোর অনুরোধ তার। শান্ত বলেন, “যদি আমরা বিশ্বকাপে না যাই, সে ক্ষেত্রে ঢাকা লিগের অনেক বেশি গুরুত্ব থাকবে। খেলোয়াড়দের এত লম্বা সময় বসে থাকাও কঠিন। আমি অনুরোধ করব, ঢাকার লিগটা যেন আগের আসরগুলোর চেয়েও সুন্দরভাবে হয়।”
শুধু লিগ নয়, বিকল্প প্রতিযোগিতার কথাও তুলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হলে খেলোয়াড়দের জন্য নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুরোধ জানান শান্ত। তাঁর মতে, মাঠের বাইরের জটিলতা সরিয়ে খেলাটাকে স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, সামনে কোন টুর্নামেন্টে খেলবেন বা পরের ম্যাচ কবে, তখন এক শব্দেই উত্তর দেন শান্ত, “না।” সেই সংক্ষিপ্ত উত্তরেই ধরা পড়ে বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাস্তব চিত্র, অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা আর অজানা ভবিষ্যৎ।