আইনের রক্ষক পুলিশই হচ্ছে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
আইনের রক্ষক পুলিশই হচ্ছে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আন্দোলন থেকে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেহামলার। গতএক বছরে ৬০১ পুলিশ সদস্যহামলায় আহত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেইমব সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আর তাতে শারীরিকভাবে গুরুতর জখম এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুও হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি চলমান ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই পুলিশ সদস্যরা উচ্ছৃঙ্খল জনতার দলবদ্ধ হামলার শিকার হচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যে পুলিশের মনোবল ফেরাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেসরকার ও পুলিশ সদর দপ্তর। তার মধ্যে আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর ও জেলা পর্যায়ের পুলিশ প্রধানরা মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে। কারণ এই পুলিশ বাহিনীই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছেপুলিশ। আর বর্তমানে অভিযানে গেলেপ্রায়ই হামলার শিকার হচ্ছেপুলিশ সদস্যর। তাতে স্বাভাবিক থাকছে নাতাদের মনোবল। কারণমব সন্ত্রাস চালিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ারপ্রবণতা বেড়েছে। আর হামলায় মহানগর পুলিশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৮৯ জন। রেঞ্জ পুলিশের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ বেশি আহত হয়। পুলিশ আইনের রক্ষক হলেও এখন তারাই হামলার শিকার হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্তদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলায় আহত হন৬০১ জন পুলিশ সদস্য। তার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭, মার্চে ৯৬, এপ্রিলে ৫২, মে মাসে ৬২, জুনে ৪৪, জুলাইয়ে ৩৯, আগস্টে ৫১, সেপ্টেম্বরে ৪৩, অক্টোবরে ৬৯, নভেম্বরে ৪১ ও ডিসেম্বরে ২৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। অতিসম্প্রতি ময়মনসিংহে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য। তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়। পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে তার সহযোগীরাছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ১০ জন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। এভাবে সারা দেশে ৪৪টির বেশি হামলার ঘটনায় অন্তত ৪১ জন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার তথ্য মিলেছে। তবে ডিএমপিতে গত বছর বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে সাজা দেয়া হয়। আর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়৮৯ জন পুলিশ সদস্য। আর পুলিশের ওপর এভাবে হামলা চালাতে থাকলে জনগণকে নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরাই পাহারা দিতে হবে। 

সূত্র আরো জানায়, বিগত সরকারের আমলে যেসব পুলিশ সদস্য নানা অপকর্মে জড়িত ছিলো তাদের কেউ কেউ পালিয়ে গেছে। আবার ইতিমধ্যে  অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাছাড়া অনেক কর্মকর্তাকে ওমসডি এবং অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে আরো গতিশীল এবং কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সংস্কার কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজও চলছে। পুলিশের স্বাভাবিকতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উন্নত দেশের আদলে পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারেররয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশহামলার শিকার হয়। নাগরিক সমাজপুলিশকে কাজ করতে সহায়তা করুন। পুলিশকে আবার কর্মক্ষম করে তোলার পাশাপাশি আবার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে