ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে প্রায় সাত ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভৈরবসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে আটকে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী। শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা মেইল ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের এক নম্বর লাইন থেকে দুই নম্বর লাইনে ক্রসিং করার সময় একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে পুরো রেললাইন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং ওই পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে সকাল ৭টায় আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে রেললাইন সচল করার চেষ্টা চালান।
ভৈরব স্টেশনে রেললাইন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন রুটের একাধিক ট্রেন যাত্রাপথে আটকা পড়ে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল এবং তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রীদের অনেকেই স্টেশনেই অপেক্ষায় সময় কাটান।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল-২ ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছে নির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে আবার যাত্রা শুরু করে। তিনি বলেন, “স্টেশন অতিক্রম করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইঞ্জিন থেকে চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়। সকাল ৭টায় রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বগি উদ্ধার ও লাইন মেরামতের কাজ শেষ হলে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।