শেরপুর ৩ আসনে দ্বিমুখী লড়াই

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
শেরপুর ৩ আসনে দ্বিমুখী লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শেরপুর- ৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে ভোটের মাঠে এবার ৫ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরা হলেন, মো. মাহমুদুল হক (বিএনপি), মু. নুরুজ্জামান বাদল (জামায়াত), মো. আমিনুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আবু তালেব মো. সাইফুদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ও মো. মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, মাকর্সবাদী)। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি এই আসনের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি। অপর বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। জামায়াতের প্রার্থী হলেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. নুরুজ্জামান বাদল। এদিকে ২৭ জানুয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম।

১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি'র প্রার্থী ডা. সেরাজুল হক। ১৯৯৪ সালের ২৮ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর ১৯৯৫  সালে উপনির্বাচনের মাধ্যমে এমপি নির্বাচিত হন তার বড় সন্তান মাহমুদুল হক রুবেল। এরপর রুবেল বিএনপি'র প্রার্থী হয়ে ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন।

স্থানীয় ভোটাররা বলেন, এবার ভোটের মাঠে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নারী ও তরুণ ভোটারদের ভোট এই আসনের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে ।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এই আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগ শাসনামলে মামলা হামলা ও গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগীতায় পাশে ছিলাম। সাধারণ মানুষদের নিয়ে করোনা ও বন্যা মোকাবিলা করেছি। অসহায় মানুষের পাশে থেকেছি। জনগণের প্রার্থী হিসেবে এবারও আশাবাদী আমি জয়লাভ করবো। বিএনপি সরকার গঠন  করলে এলাকার উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ উন্নত করতে কাজ করবো।

জামায়াত প্রার্থী মু.নুরুজ্জামান বাদল, বলেন, সীমান্ত ঘেষা এই পাহাড়ি এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়াতে চাই। মাাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়তে চাই। এই এলাকাকে আধুনিক পর্যটন এলাকা হিসেবে দেখতে চাই। দেশের মানুষ পরিবর্তন ও সৎ নেতৃত্ব চায়। আমার প্রত্যাশা এলাকার সকল মানুষ ন্যায়-ইসনাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা কে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।