জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এমপি প্রার্থী লিটন মিয়ার রহস্যাবৃত অপহরণ ঘটনাটি ধুম্রজালের সৃষ্টি করেছে। লিটন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। তিনি জেলা যুুব অধিকার পরিষদের সভাপতি। তিনি ঢাকা গাজীপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অফিস ছুটির পর প্রতিদিন তিনি নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় আসতেন। ২৭ জানুয়ারি দুপুর থেকে নিখোঁজের খবরের সূত্র ধরে সন্ধ্যার পর তাঁকে অপহরণের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হতে থাকে। একদিকে লিটন মিয়ার দলীয় নেতা-কর্মী এবং স্বজনদের সাথে যোগাযোগ না থাকা, অপর দিকে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ঘটনাটি নানা প্রশ্নসহ আতংক এবং ধুম্রজালের সৃষ্টি করে। মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিটন মিয়ার নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব দেই। গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়। ওদিকে লিটন মিয়ার শুভাকাঙ্খি, স্বজন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতা-কর্মীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্রশাসনসহ নানা স্থানে ধর্না দিতে থাকেন। ইতোমধ্যেই ২৮ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে মহিরামকুল এলাকায় লিটন মিয়াকে মুমূর্ষুবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। রাত সোয়া ১টায় লিটন মিয়াকে উদ্ধার শেষে মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেলান্দহ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, উদ্ধারের সময় আমিসহ নেতা-কর্মীরাও পুলিশের সাথে যাই। তিনিসহ নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, লিটন মিয়াকে দুই দিন আগে মোবাইলে হুমকি দেয়া হয়েছে। এই ভয়ে তিনি বন্ধ রাখেন। প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিন তিনি গাজীপুরের অফিস ছুটির পর বিকেলের দিকে জামালপুরে আসেন। সন্ধ্যার পর তিনি মেলান্দহে আসার জন্য আজম চত্বরে (বর্তমানে বিজয় চত্বর) অবস্থান করেন। এ সময় তাঁকে মুখোশধারী ৫/৬ জন অপরিচিত যুবক লিটন মিয়াকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকার তুলে মারধর করে এবং নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে শাসিয়েছে। পরে রাত ১২টার দিকে মহিরামকুলে ফেলে দেয়। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মেলান্দহ হাসপাতালে লিটন মিয়া গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, অপহরণকারীরা তাকে মারধর করেছে। তিনি কাওকে চিনতে পারেননি। আমি সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবো। জামালপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে আমাদের প্রচারণা বাধাগ্রস্থ করতে একটি কুচক্রি মহল হুমকী প্রদানের কথা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। কোন মহল আপনাদের হুমকী দিচ্ছে? এমন প্রশ্নে জাকির হোসেন বলেন, এই মুহুর্তে নাম বলতে চাচ্ছি না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে। এ ব্যাপারে সার্কেল এসপি মোস্তাফিজুর রহমান জানান-লিটন মিয়া প্রকৃতই অপহরণ কিংবা অপহরণ নাটক কি না? এই ঘটনার আড়ালে অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না? তদন্ত চলছে। এই ঘটনার অন্তরালে অন্য কিছু থাকলেও, আইনের আওতায় আনা হবে।