খুলনায় 'জলবায়ু সহনশীলতার উন্নয়ন এবং ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলা সম্পর্কিত সক্ষমতা বৃদ্ধি' শীর্ষক এক কর্মশালা বুধবার (২৮ জানুয়ারী) সকালে নগরীর রেলিগেটস্থ এ্যাডামস ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির জাতীয় কৌশল প্রণয়নে সহযোগিতা কার্যক্রম মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ (ম্যাপ) প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এ্যাডামস ফাউন্ডেশন এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মঞ্জুর আলম। সভাপতিত্ব করেন এ্যাডামস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম আলী আসলাম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন-কুয়েট'র ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: নূরুন্নবী মোল্লা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো: ইয়াসিন আলী, পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: মুজিবর রহমান, এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো: রেজাউল ইসলাম, আরবান অ্যান্ড রুরাল প্লানিং ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: জাকির হোসেন, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো: নাজমুস সাদাত ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লানিং অফিসার মো. তানভির আহমেদ। কর্মশালায় বলা হয়, দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে বসবাসের জমি, পরিচয়, অভিজ্ঞতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিও বাড়ছে। ফলে অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়েই প্লান করে দুর্যোগ সহনশীল উন্নত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মঞ্জুর আলম বলেন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও দুর্যোগের ওপর অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু গবেষণার ফাইন্ডিংসগুলো এক জায়গায় করে আমরা সরকারকে দিতে পারিনি। এসব গবেষণা কাগজ-কলমে না রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য গবেষকদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করতে পারলে লস ও ড্যামেজ কমে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কর্মশালার ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ, যা টেকসই উন্নযন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে, সবচেযে দরিদ্র এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলি সমস্যা তৈরির জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হওয়া সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নত দেশগুলির সরকারগুলি নির্গমন কমাতে দ্রুত বা পর্যাপ্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে কার্যকর অভিযোজনের জন্য অপর্যাপ্ত ক্ষমতা রযেছে। যার ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া, ইতিমধ্যেই যে নির্গমন ঘটেছে তা অদূর ভবিষ্যতে আরও অনিবার্য প্রভাব ফেলবে এবং মানব সমাজ, অর্থনীতি এবং বাস্তুতন্ত্রের উপর মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে, এতে সন্দেহ নেই। আরও উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে চরম আবহাওয়া, জলবায়ু সংঘটিত হওয়ার মাত্রা এবং তীব্রতা উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইতিমধ্যেই বৃষ্টিপাত এবং তাপপ্রবাহের পরিবর্তনের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছে, সেইসাথে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিধস এবং খরার পাশাপাশি অন্যান্য স্থানে হারিকেন দেখা দেয়। ফলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ধীরগতির প্রভাবের সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, সমুদ্রের অম্লীকরণ এবং মরুকরণ এবং বনভূমির অবক্ষয়ের সমস্যাগুলি পরিবেশ এবং মানুষকে প্রভাবিত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রবণতাগুলি ক্রমান্বযে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক এবং অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির উপর বড় প্রভাব ফেলছে। কর্মসূচী সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান রাজা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ্যাডামস ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ। 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এবং ক্ষয়ক্ষতির ধারণা' বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইন্সটিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)'র সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা। প্রকল্পের কার্যক্রম এবং মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান। কপ-৩০-পরবর্তী পর্যালোচনা-আমাদের প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির বিষয়ে উপস্থাপনা করেন অ্যাইক্যাড'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব হক। ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করেন রূপক সাহা। কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ক্ষতি এবং ক্ষয়ক্ষতির ধারণা, কপ-৩০ পরবর্তী পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির জাতীয় কৌশল প্রণয়ন বিষয়ে সচেতন করা ও মতামত প্রদানে উৎসাহিত করা হয়।