কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মহা আব্দুল মান্নান বলেছেন, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ নির্বাচন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে কোনরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন বরদাশ্ত করা হবে না। সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা গণের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের শংকা নেই। তিনি সকল ভোটারকে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে ভোট দান করার আহ্বান জানান। বলেন, গত ১৭ বছর জাতি কোনরূপ ভোট দান করতে পারেননি। এখন সুযোগ এসেছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেয়ার। ভোটাধিকার প্রত্যেকের নিকট গুরুত্বপূর্ণ আমানত। এ আমানতকে কিছুতেই বিনষ্ট করা যাবে না। তিনি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুসারে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবিরের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ, এন, এম, সাজেদুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার, ঈদগাঁও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আসিফ মাহমুদ মিনহাজ এবং কক্সবাজার বিজিবি (চৌত্রিশ ব্যাটালিয়ন)-র সহকারী পরিচালক মোঃ হায়দার আলী। পুলিশ সুপার তার দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্যে বলেন, ভয়ের কোন কারণ নেই। শংকা মুক্ত পরিবেশে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্র সকলের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে দুইজন অতিরিক্ত প্রিজাইডিং অফিসার সহ ৩৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার অংশ নেন। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট ২০২৬ এ সকল প্রকার ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান সহকারি কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার সদর, শারমিন সোলতানা। তিনি এদিন সকালে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালে এ অভয় বাণী দেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বকে উৎসবে পরিণত করতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ তদারক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বিন্যস্ত এ কর্মশালায় প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলে সাত শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন। রিসোর্সপারসন ছিলেন বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বৃন্দ। টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনিক চৌধুরী জানান, ঈদগাঁও উপজেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৯৯, ৪১১ জন। পুরুষ ভোটার হচ্ছেন ৫৩,৭৩৩ জন এবং মহিলা ভোটার হচ্ছেন ৪৫, ৬৭৮ জন। এতে নির্বাচন বিষয়ক প্রাথমিক ধারণা, ছবিসহ ভোটার তালিকা, ভোট কেন্দ্র- ভোটকক্ষ প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি, ভোট কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী উপকরণ গ্রহণ ও যাচাই, ভোট গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া, প্রযুক্তির অপব্যবহার সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। এদিকে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ থেকে কক্সবাজার বিজিবি (৩৪ ব্যাটেলিয়ান) এর বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে বিজিবি ৮০ জন সদস্য অবস্থান করছে বলে জানান সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। এদিকে অন্যান্য দিনের মতো আজও ঈদগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টহল অভিযান অব্যাহত থাকে।