নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী পথসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তমরদ্দি ইউনিয়নের তালতলা বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের তালতলা বাজারে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সভাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থকেরা ছোটাছুটি শুরু করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, আব্দুল হান্নান মাসউদের বক্তব্য চলাকালে বিএনপির লোকজন সমাবেশস্থলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আকস্মিক হামলার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এনসিপির দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হামলা।
এর আগের দিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) একই এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। ওই দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হোসেন হাছান ও তমরদ্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহেরসহ তাদের অনুসারীরা তালতলা বাজারে এনসিপির নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
পথসভায় হামলায় আহত হন তমরদ্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহমানের ছেলে দিদার উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে সম্পদ এবং আরও একজন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি হাতিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শামছল তিব্রিজ বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা, ভোটকেন্দ্র দখল এবং ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে তমরদ্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহের বলেন, “এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তারা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।