জামায়াতের ‘ইনসাফ’ গোপন বৈঠকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চায়: রেজাউল করিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
জামায়াতের ‘ইনসাফ’ গোপন বৈঠকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চায়: রেজাউল করিম

লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম জামায়াতের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেছেন, “জামায়াত আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে নিজেদের ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা আমেরিকার ইনসাফ দেখেছি, আমরা ভারতের ইনসাফ দেখেছি, বাংলার মানুষ আর ওইসব ইনসাফ দেখতে চায় না।” তিনি রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন।

সভায় রেজাউল করিম লক্ষ্য করেছেন, যে নীতি-আদর্শে দেশের বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে, টাকা বিদেশে পাচার হয়ে বেগমপাড়া তৈরি হয়েছে, রাস্তায় মানুষ নামলেই গুম হয়ে যেত, ঘরে গেলে খুন হয়ে যেত— সেই একই নীতিতেই জামায়াত দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রচলিত নিয়মে ৫৪ বছর দেশ চালানোর পর কি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন হয়েছে? এই নিয়মে আবার নতুন করে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে তারা?”

রেজাউল করিম আরও বলেন, জামায়াত স্পষ্ট জানিয়েছে তারা ইসলামী শরীয়াহ আইনে দেশ চালাবে না। একজন প্রার্থী জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াত কোনো ইসলামি দল নয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে কোন নীতি ও আদর্শে দেশ পরিচালনা করবে?”

সভায় ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী চিন্তাবিদ হাবিবুর রহমান মেজবাহ ও জেলা কমিটির সেক্রেটারি জহিরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. ইব্রাহিমকে দলীয় প্রতীক তুলে দেন পীর।

রেজাউল করিম ভোটারদেরও উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইসলামী আন্দোলনকে ভোট না দিলে এই ভুলের মাশুল শেষ হবে না। আল্লাহ যদি কবুল করেন, ৫৪ বছরের ইতিহাস ৫৪ মাস নয়, ৫৪ দিনেই পরিবর্তন সম্ভব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদ সাইফুল্লাহর বিকল্প নেই। তিনি দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের বাংলাদেশে একটাই দল রয়েছে যা ইনসাফ ও শরীয়াহর মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেই ইনসাফের প্রতিক হলো হাতপাখা। ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি, তাই শরীয়াহ ভয় পত্র নয়।”

সভায় জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ, ইসলামী যুব আন্দোলনের সদস্যসহ কমলনগর শাখার বিভিন্ন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে