১২ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বাঁক পরিবর্তনের দিন: জামায়াত আমির

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
১২ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বাঁক পরিবর্তনের দিন: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বাঁক পরিবর্তনের দিন হতে যাচ্ছে । জাতি আজ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় আল্লাহর গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। যে রাজনীতি মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে খুন করে এটা আবার কোন রাজনীতি। আল্লাহ তায়ালা ৫ তারিখ দেশে একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে আসমানের ছাদের নিচে সবচেয়ে  নির্যাতিত দলটি হচ্ছে বাংলাদেশ জামাত ইসলামী। একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়, যেখানে তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে হানাহানি হবে না, নোংরা রাজনীতি হবে না এবং মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জনসভায় নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন,  যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নিতে চায় তারা পশুর চেয়েও খারাপ। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, মায়েদের গায়ে হাত দিলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে তুচ্ছ বিষয়ে হানাহানি হবে না, নোংরা ঘটনা ঘটবে না। রাজনীতির নামে মানুষ খুনের সংস্কৃতিকে আমরা ঘৃণা করি। নারীর প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তাকেই এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পরিচয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই ভবিষ্যৎ গড়তেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। জামায়াত আমির আরও বলেন ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে ভালবাসা আদায় করা যায় না। ভালবাসা আসে মনের গভীর অন্তর থেকে। শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে প্রশাসনের ডাকা একটি মিটিংয়ে স্পষ্ট দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে প্রশাসন গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জামায়াত ইসলামীর শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী,ঢাাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের  কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী , শেরপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপিসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান শেরপুর জেলার তিনটি আসনের জামায়াত প্রার্থীদের  (শেরপুর -১ হাফেজ রাশেদুল ইসলাম , শেরপুর -২  মু.গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও শেরপুর -৩ মু. নুরুজ্জামান বাদল ) হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। সেই সঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  তাদের নির্বাচিত করার জন্য শেরপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে সকাল সাড়ে ১১ টায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন। এদিকে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা । জনসভায় যোগ দিতেে  সকাল থেকেই জেলা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনগুলোর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ নেতাকর্মীদের ঢল নামে। এ সময় দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে