সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’, অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’, অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। কলেজগুলোর স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে জারি হওয়া এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাত কলেজের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

চূড়ান্ত অধ্যাদেশে খসড়া প্রস্তাবে থাকা চারটি স্কুলে কলেজ বিভক্ত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়েছে। পরিবর্তে কলেজগুলোর বর্তমান পরিচয়, অবকাঠামো, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিসহ সব স্বকীয়তা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা, গবেষণা ও সনদ প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া করা ভবন ও জায়গা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ, গবেষণা পরিচালনা, ডিগ্রি ও সনদ প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ। সংযুক্ত কলেজগুলোর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে অধ্যক্ষরা দায়িত্বে থাকবেন, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হবেন উপাচার্য।

এই সাতটি কলেজ একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। পরে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে সেশনজট, ফল প্রকাশে বিলম্বসহ একাডেমিক হয়রানির অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সেই দাবি আরও জোরালো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বুধবার (২২ জানুয়ারি) খসড়াটি অনুমোদন দেয়। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেটিই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ হিসেবে গেজেট আকারে প্রকাশ পেল।

শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সাত কলেজের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে