সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনের আটক হওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “এইটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দেশব্যাপী হচ্ছে। আমার মনে হয় ঘটনার সংখ্যা অনেক হবে।”
রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আজ বুধবার বিকেলে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, “যেখানে নির্বাচনে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন প্রতিহত করতে সকল ব্যাংক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক লেনদেন ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-জামায়াতের একটি জেলার সর্বোচ্চ নেতা কোন উৎস থেকে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কী উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য, নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন? স্পষ্টতই আচরণবিধির এই লঙ্ঘন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলটির দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রমাণ করে।”
বিএনপির বিজয় প্রতিহত করতে একটি গোষ্ঠী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “সৈয়দপুর বিমানবন্দর কাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো জামায়াতের আমিরের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তেও একই রকম অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনের ঘটনা দেখা গেছে। আরও দেখা গেছে, কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের অসংখ্য জায়গায়। ইতঃপূর্বে দেশব্যাপী দলটির নেতা-কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডিও নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদে আমরা দেখছি, দেশের অনেক জায়গায় ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়াতে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রসহ বাঁশ, পাইপ ও স্ট্যাম্প জড়ো করছে। বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ বিতরণ করছে। এই সব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, ভোটের মাঠে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সেই দলের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।”
মাহদি আমিন বলেন, “আমরা উদাহরণস্বরূপ কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। বগুড়া-৪ আসনে নন্দীগ্রামে জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর চোখের দৃষ্টি হারানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর মা স্ট্রোক করে মারা যান। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দ্রুত বিচারের দাবি জানাই। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর বোরকা ও নিকাব বানানোর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। ইসলামি মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অবশ্যই নারীদের আবরু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ইসলামি সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে প্রতিরোধ করতে হবে।”
মাহদী আমিন বলেন, “এই নির্বাচন কেবল ভোটের অধিকার নয়; এই নির্বাচন দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার এবং স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই নির্বাচন শহীদ এবং গুম হওয়া প্রতিটি সন্তানের মায়ের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবার সংকল্প। এই নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক।”
সংবাদ সম্মেলনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছি।’