ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত ফলাফলে এমন চিত্র উঠে আসে।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ঝিনাইদহ-৪ আসনে আবু তালিব পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কাপ পিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট। ফলে ধানের শীষের প্রার্থীর চেয়ে ৪৮ হাজার ৩৬১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
ঝিনাইদহ-৪ আসনটি কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাশেদ খানের বাড়ি ঝিনাইদহ-২ আসনের মুরারীদহ গ্রামে। নির্বাচনের আগে তিনি কখনো কালীগঞ্জে আসেননি বলেও জানান তারা। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তিনি কালীগঞ্জে আসেন। পরে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের আড়পাড়া এলাকায় ভোটার স্থানান্তর করেন।
ভোটারদের একটি অংশের দাবি, ঝিনাইদহ-৪ আসনটি মূলত বিএনপি অধ্যুষিত। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকায় ভোট বিভক্ত হয়েছে। তাদের ভাষায়, “দুইজন শক্ত প্রার্থী মাঠে থাকায় ধানের শীষের ভোট ভাগ হয়েছে, তাই রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন।”
এ বিষয়ে রাশেদ খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে একই নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসনেও জামায়াত বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছে। কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর নিয়ে গঠিত এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেহেদী হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪১২ ভোট।
ঝিনাইদহের দুই আসনের ফলাফলেই দেখা গেল জামায়াত প্রার্থীদের স্পষ্ট অগ্রগতি। তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।