বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিপুল সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের পর থেকে কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয় এবং রাত পর্যন্ত আসতে থাকে বেসরকারি ফলাফল।
ভোটের মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চূড়ান্তভাবে শক্ত। সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এর ফলে নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটারদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। রাজধানী ঢাকার ভোটকেন্দ্রে তরুণ ও নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
নির্বাচনের পটভূমি বিবেচনায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র ও বিক্ষোভভিত্তিক অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতি কাটিয়ে এবার শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৬৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে, মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬, শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা-১০, নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২, আব্দুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২সহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জয়ী হয়েছেন।
জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
বিএনপি শুক্রবার বাদ জুম’আ দেশব্যাপী মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় দোয়া আয়োজন করবে। দলীয় পক্ষ থেকে নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণকে দোয়ায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদেরও প্রার্থনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভোটের উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। বৈধ ভোটের হার ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ শক্ত বলয়কে ছাড়িয়ে বিএনপি সরকারের পথে এগোচ্ছে। এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরায় শক্তিশালী করেছে।