কুষ্টিয়ায় হ্যা ভোটসহ জামায়াতের জয় জয়াকার

এফএনএস (গোলাম কিবরিয়া মাসুম; কুষ্টিয়া):
| আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম | প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
কুষ্টিয়ায় হ্যা ভোটসহ জামায়াতের জয় জয়াকার

শেষ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করেন। একটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জয়লাভ করেছেন। স্বাধীনতার পরে শুধুমাত্র কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে জামায়াতের আব্দুল ওয়াহেদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির দূর্গখ্যাত এ জেলায় এবার বিপুল ভোটে জামায়াত তিনটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবাচনের ভোট গ্রহণ ও গননা শেষে এবং পোস্টালভোটসহ বেসরকারী ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ ইকবাল হোসেন।

এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দীন পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পোল হয় ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৩টি, এর মধ্যে বৈধ ভোট  ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৯টি এবং বাতিকৃত ভোট ৫ হাজার ৮৭৪টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এর আগেও বিএনপির থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার পিতা প্রয়াত আহসানুল হক পচা মোল্লা ও এ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল গফুর ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮২১ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পোল হয় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯১১টি, এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৭১৯টি এবং বাতিকৃত ভোট ৭ হাজার ১৯২টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আব্দুল গফুর এর আগে ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।  

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পোল হয় ৩ লাখ ২১ হাজার ৩০৩টি, এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০৪টি এবং বাতিকৃত ভোট ৪ হাজার ৯১৯টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আফজাল হোসেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট পোল হয় ৩ লাখ ০৮ হাজার ২৬০টি, এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩ লাখ ০২ হাজার ৭৭৭টি এবং বাতিকৃত ভোট ৫ হাজার ৪৮৩টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া কুষ্টিয়ার চারটি আসনে গনভোটে “হ্যা”ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৪০টি এবং “না”ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ২১০টি।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪টি, গনভোট পড়ে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৮৫টি, মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ১৩৫টি। বৈধ ভোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৮টি এবং বাতিলকৃত ভোট ৩৯ হাজার ৬০৭টি। এ আসনে “হ্যা”ভোট পড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯১৪টি এবং “না”ভোট পড়ে ৬৪ হাজার ৬৪টি।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১টি, গনভোট পড়ে ৩ লাখ ৪৮হাজার ৫৪৭টি, মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ১৭০টি। বৈধ ভোট ৩ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫টি এবং বাতিলকৃত ভোট ৩৪ হাজার ২৫২টি। এ আসনে “হ্যা”ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৪টি এবং “না”ভোট পড়ে ৭৬ হাজার ১৬১টি।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৩টি, গনভোট পড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯টি, মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ১৪২টি। বৈধ ভোট ৩ লাখ ১৬৮টি এবং বাতিলকৃত ভোট ২০ হাজার ৮০১টি। এ আসনে “হ্যা”ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৯টি এবং “না”ভোট পড়ে ৬৫ হাজার ২১৯টি।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৪ হাজার ৪১৭টি, গনভোট পড়ে ৩ লাখ ০৭ হাজার ৮০৬টি, মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ১৫২টি। বৈধ ভোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৭০৯টি এবং বাতিলকৃত ভোট ২৫ হাজার ৯৭টি। এ আসনে “হ্যা”ভোট পড়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ১৩টি এবং “না”ভোট পড়ে ৮৫ হাজার ৬৯৬টি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে