বাগেরহাট ১ আসনের মোল্লাহাটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে এক ‘পোস্ট মর্টেম’ সভা করেছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শনিবার দুপুরে মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা খাদ্য গুদাম চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি চৌধুরী সেলিম আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক আহ্বায়ক শিকদার জামাল উদ্দিন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাহেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, “নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে বাহ্যিক কারণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিভক্তিই বেশি দায়ী।” তারা অভিযোগ করেন, দলের একটি পদধারী বড় অংশ নির্বাচনে ‘বেইমানি’ করেছে। ওই অংশ ধানের শীষের পরিবর্তে দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদেরও প্রভাবিত করেছে।
সাবেক আহ্বায়ক শিকদার জামাল উদ্দিন বলেন, “যারা দলের পরিচয়ে পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনের সময় অন্য প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সংগঠনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।” সভাপতির বক্তব্যে চৌধুরী সেলিম আহমেদ বলেন, “যেসব কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে হিন্দু ভোটার বেশি এবং দলীয় কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু কিছু এলাকায় ভেতরের বিভক্তি ও অসংগঠিত অবস্থার কারণে ফলাফল বিপর্যস্ত হয়েছে।” এছাড়া পদধারী অনেকেই ষড়যন্ত্র তথা বেঈমানির মাধ্যমে ধানের শীষের পরাজয় ঘটিয়েছে। বক্তারা আরও দাবি করেন, দলের একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে এবং নির্বাচনের শেষ দিকে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। তারা আরো বলেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠন এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।