বাউফলে শহীদ মিনারে বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জা, বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
বাউফলে শহীদ মিনারে বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জা, বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ

পটুয়াখালীর বাউফলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ে বাড়ির মত করে ঝারবাতি দিয়ে সাজানো হয় শহীদ মিনার।২০শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পৌর শহরের পাবলিক মাঠে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এমন সাজে সাজানো হয়। সেখানেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় সংসদ, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠন। শোকাবহ দিনে উপজেলা প্রশাসনের এমন ঝলমলে ঝাড়বাতি দিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সাজানো ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোকদের মতে, ১৯৫২ সালের এই দিনটি রক্তঝরা দিন। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের জন্য সেদিন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। শহীদ হয়ে সালাম, রফিক, বরকত সহ অনেকে। এদিন বাঙালি জাতির শোকের দিন। সেই শোকের দিনে শহীদ মিনার ঝলমলে আলোকসজ্জা দিবসের গাম্ভীর্যের সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বাউফলের প্রবিণ সাংবাদিক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্ততা অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি মূলত একটি শোকের দিন। এমন শোকাবহ দিনে শহীদ মিনারকে ঝলমলে ঝাড়বাতি বা রঙিন আলো দিয়ে সাজানো শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা এবং অনেকটা ব্যঙ্ক করার শামিল। শহীদ মিনারে শান্ত গাম্ভীযপূর্ণ পরিবেশে শ্রদ্ধা নিবেদেনর পরিবর্তে আধুনিক আলোকসজ্জা ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন সেই নিভৃত আবেককে ম্লান করে দিচ্ছে। এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সহ সারাদেশে কোথায়ও শহীদ মিনারে এমন ঝলমলে আলোয় আলোকিত করা হয়নি। বাউফল এই প্রথম কেনো এমন করা হলো তা বুঝতে পারছি না। বাউফল পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার বলেন, শহীদ দিবসে এমন আরোকসজ্জা দেখে আমরা বিস্মিত। কখনো শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে এমন রঙিন আলোকসজ্জা দেখিনি। এমন আলোর ঝলকানি দেখে মনে হচ্ছে কোনো আনন্দঘন মুহুর্ত পাড় করছি। যদিও দিনটি বাঙালি জাতির জন্য শোকের দিন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. ওয়াহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, ভাষার মাস শ্রদ্ধার মাস। আমরা বিনম্র চিত্তে সকল শহীদদের স্মরণ করি। সারা বাংলাদেশে কোথাও আমাদের বাউফলের মতো এখন পর্যন্ত এ ধরনের আলোকসজ্জা দেখা যায়নি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাউফলের পাবলিক মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে ঝাড়বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। তবে এ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, বাংলাদেশের দায়িত্বশীল মহল এবং সুশীল সমাজ বিশদভাবে আলোচনা করতে পারেন। স্থানীয়ভাবে আমার কাছে বিষয়টি দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। আমরা যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা প্রদর্শনে কার্পণ্য করেছি। বাউফল কালচারাল ক্লাবের সদস্য রইসুল ইসলাম ইমন বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা শোকবহন করে থাকি। বীর শহীদের রক্তস্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি। শোকস্মরণে উপজেলা প্রশাসনের রঙিন লাইটিং দেখে কোনোভাবেই শোকের পরিবেশ মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে যেন কোনো উৎসব আয়োজনের দিন। আমি এই ঘটনার ব্যক্তিগতভাবে তীব্র নিন্দা জানাই। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছেন, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সে সময় জনসমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে শহীদ মিনার চত্বর ও আশপাশে সীমিত পরিসরে ঝাড়বাতি ও আলোকসজ্জা স্থাপণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, এখানে সমালোচনা করার কিছু নেই। স্থানটি আলোকিত করার জন্য এই আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দূর থেকেও স্থানটি দেখা যায়। শোকাবহ পরিবেশ মলিন হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কিছু নয়। সারাদেশে তো রঙিন আলোপনাও করা হয়। তাতে তো শোক মলিন হয় না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে