পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিষমুক্ত শুটকি উৎপাদন শুরু

এফএনএস (শহিদুল ইসলাম; জিয়ানগর, পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিষমুক্ত শুটকি উৎপাদন শুরু

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর সংলগ্ন কচা নদীর চরে শুরু হয়েছে বিষমুক্ত শুটকি উৎপাদন। স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত এই শুটকিতে কোনো ধরনের বিষ বা রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার না করে এর সুনাম ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাড়েরহাটে এবারকার শুটকি উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়, যা চলবে আগামী মার্চ পর্যন্ত। পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর থেকে বাছাই করা সামুদ্রিক মাছ সংগ্রহ করে ডেলা, মরমা, পোমা, পাইসা, ছুরি, লইট্যা ও ডুম্বুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি করা হচ্ছে। এ শুটকি শুধুমাত্র মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রক্রিয়াজাত হয়; অন্যত্র যেভাবে পশুখাদ্যের শুটকি তৈরি হয়, পাড়েরহাটে তেমনটা করা হয় না। পাড়েরহাটের বাদুরা এলাকার সোহাগ হাওলাদার দুই একর জমির ওপর তৈরি করেছেন শুটকি পল্লী। আট বছর ধরে তিনি এ বিষমুক্ত শুটকি উৎপাদন করে আসছেন। তার পল্লীতে ৮ জন শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা যায় । সোহাগ আমারদেশ কে জানান, আড়ত থেকে মাছ এনে প্রথমে লবণ পানিতে একদিন ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর বাঁশের তৈরি মাচা ও বেড়ায় ৮-১০ দিন শুকানো হয়। প্রতি বছর তিনি ৮০০ থেকে ১ হাজার মণ শুটকি উৎপাদন করেন, যা চট্টগ্রাম, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি হয়। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। শ্রমিক রাসেল হাওলাদার বলেন, “এখানে মাসিক বেতনে কাজ করি। বিষ ছাড়া শুটকি তৈরি করা হয়। এই শুটকি আমরাও খাই। সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখি, ভোরে খুলে দিই।” পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির আমারদেশ কে জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব শুটকিতে রাসায়নিক ব্যবহার না করায় ভোক্তাদের আস্থা বেড়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ-এ পাঁচ মাসই শুটকি উৎপাদন চলে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ রহমান বলেন, শুটকির মান উন্নয়নে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পাড়েরহাটের স্থানীয়রা সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত উপায়ে শুটকি উৎপাদন করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে