চাঁদা বৃদ্ধির অভিযোগে ত্থি-হুইলার চালকদের বিক্ষোভ

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
চাঁদা বৃদ্ধির অভিযোগে ত্থি-হুইলার চালকদের বিক্ষোভ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশাল উপজেলার ইভা ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘জিপি’ নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজি চালকরা। রবিবার সকালে কয়েকশ’ সিএনজি চালক মহাসড়কে অবস্থান নিলে দু’পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ প্রায় তিন কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ত্রিশাল থানা পুলিশ চাঁদা বন্ধের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় চালকরা। জানাযায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান সিএনজি ও থ্রি হুইলার পিকআপ থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে জেলা শ্রমিক নেতা দুকুল তার দুই শীর্ষ রফিক আর মদনের মাধ্যমে প্রতি গাড়ি থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা নিতো। ৫ই আগষ্টের পর মাস খানেক বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয় এই চাঁদা উত্তোলন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর ওই চাঁদা প্রথমে ৪০ টাকা ও পরে ৭০ টাকা আর এককালীন এক হাজার টাকা দাবী করে শ্রমিক নেতা দুকুল। এই চাঁদা চালকরা না দেয়ায় তাদেরকে মারধর গাড়ি আটকিয়ে রাখাসহ নানা হয়রানি করতে থাকে। এরই প্রতিবাদে রবিবার সকালে আন্দোলনে নামে সিএনজি ও থ্রি হুইলার চালকরা। 

বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, এতদিন যেখানে প্রতিদিন ২০ টাকা করে ‘জিপি’ দিতে হতো, সেখানে হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সিএনজি চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। রহিম নামের এক চালক জানান, “চাঁদার টাকা না দিলে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না এবং আমাদেরকে মারধরও করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।” সিএনজি চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশাল টু ময়মনসিংহ সিএনজি চালায়। ৫ই আগষ্টের পর আমাদের কোন চাঁদা দিতে হয়নি। ১৫ থেকে ২০ দিন পর এসে আমাদের কাছ থেকে দশ টাকা করে চাঁদা ধরা শুরু করলো, তার কিছুদিন পর এসে সেই চাঁদা ২০ টাকা করলো, অতঃপর আবার এসে বলল আমাদের ২০ টাকা দিয়ে হবে না ৪০ টাকা করতে হবে ৪০ টাকা করা হলো। এখন জাতীয় নির্বাচনের পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পড় ওই চাঁদা ৭০ টাকা করা হলো এবং মাসিক ১০০০/- টাকা দিতে হবে। এই চাঁদা দিতে পারলে গাড়ি নিয়ে আসতে বলছে অন্যথায় গাড়ি নিয়ে যেতে মানা করছে, কেউ চাঁদা না দিতে পারলে তাদেরকে মারধর করা হয়। ময়মনসিংহ কলেজ গেটের সামনে দুকুল নেতার নেতৃত্বে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়, আগে আমাদের কাছ থেকে চল্লিশ টাকা করে চাঁদা নিতো ওই চাঁদা এখন ৭০ টাকা করা হয়েছে এবং মাসিক ১০০০ টাকা করা হয়েছে। অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও প্রশাসনের আশ্বাষে অবরোধ তুলে নেয়। 

ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্য ফিরোজ হোসেন বলেন, মহাসড়কে সিএনজি চালকরা কোতয়ালী থানার চরপাড়ায় হয়রানি শিকার হয়। এরই প্রতিবাদে ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কথা বলি ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে কথা বলে চাদা বন্ধের আশ্বস্থ করলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।  উল্লেখ্য; কথিত শ্রমিক নেতা দুকুল নিজেকে ময়মনসিংহ জেলা অটো সিএনজি ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মহাসড়কে চাঁদাবাজী করে আসছে। ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, পরিবহন নেতা  আমিনুল হক শামীমের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলেও ৫ই আগষ্টের পর খুলোশ পাল্টে নিজেকে ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি ওয়াহাব আকন্দের লোক পরিচয় দিয়ে এ চাদাবাজি করে যাচ্ছে।   এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াহাব আকন্দ বলেন, আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ চাঁদাবাজী করে তাকে আটক করে পুলিশের সোপর্দের আহবান জানাই। আমি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী কিশোর গ্যাং এসব ব্যাপারে জিরো টরালেন্স। ময়মনসিংহ শহর থেকে এসব উৎখাত করে ছাড়বো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে