পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে মাত্র দুই হাজার পাওনা টাকা আদায় নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন রক্তাক্ত জখম হয়। আহত হয় আরও তিনজন। আহতদের মহিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে হামলাকারীরা হাসপাতালে ঢ়ুকে দ্বিতীয় দফা মারধর ও হাসপাতাল ভাংচুর করে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে আসলে হামলাকারী ছাত্রদলের পক্ষ নিয়ে একটি গ্রুপ মহিপুর বিএনপি সভাপতি জলিল হাওলাদার কে লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালে ভাংচুরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলে গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। কলাপাড়ায় যেকোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিএনপি শক্ত হাতে দমন করবে। কলাপাড়ার মহিপুরের গোড়া আমখোলা গ্রামে পাওনা দুই হাজার টাকা নিয়ে সোলায়মান ও আকরামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার বিকালে সোলায়মানের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদল নেতা শাওনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি পক্ষ আকরামকে মারধর করে। এসময় আকরামকে বাঁচাতে তার মা এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। বসত ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে শাওন ও তার সহযোগীদের মারধর করে। এতে শাওন আহত হয়। এদিকে আকরামের উপর হামলার খবর পেয়ে মহিপুর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের ছাত্রদলের একটি গ্রুপ শনিবার রাতে আহত শাওনসহ তার সহযোগীরা মহিপুর কেয়ার মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসলে হাসপাতালে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হাসপাতালের গ্লাস, দরজা ভাংচুর করে হামলাকারীরা। হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম মনিরুজ্জামান জানান, আহত রোগীদের খুঁজতে এসে হাসপাতালে ভাংচুর করে। এসময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এবিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হাওলাদার বলেন, যারা হামলার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। দলের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই ঘটনাকে বিএনপির কাউকে ছাড় দেবে না। মহিপুরে বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ওছাত্রদলের দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করায় হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে বিএনপির একটি গ্রুপ মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার কে লাঞ্চিত করেছে। এবিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, গত ১৭ বছর যারা রাজনীতিতে ছিল না তারা এখন বিএনপির সুনাম নষ্ট করতে এই সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাকে লাঞ্চিত করেছে। তবে বিএনপির সভাপতি কে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা। মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আল মামুন সজিব বলেন, তারা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের পক্ষে থানায় অভিযোগ দেয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সভাপতি হাসপাতালে হামলাকারীদের বিপক্ষে থানা পুলিশ কে মামলা নিতে বলায় তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে কেউ লাঞ্ছিত করেনি। এবিষয়ে হাসপাতালে হামলায় জড়িত মহিপুর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম বলেন, আমার বন্ধু আকরাম ও তার মাকে মারধর ও বসত ঘরে হামলা করে শাওন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় শাওন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এসময় হাসপাতালের কিছু ক্ষতি হয়। হামলা করা হয়নি। এবিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত খান সাংবাদিকদের বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও হাসপাতালে হামলার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।