বরিশালের মুলাদীতে চলাচলের ‘সিরিয়াল’ নিয়ে সিএনজি ও মাহিন্দ্রা চালকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এঘটনায় মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কে এ দুটি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মুলাদী পৌরসভার বেইলিব্রীজ এলাকায় এ মারামারি ঘটনা ঘটে। সিএনজি চালক শহীদুল ইসলাম সিরিয়াল ভেঙে মুলাদী সিনেমা হলের সামনে থেকে দুজন যাত্রী নিয়ে মীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে মাহিন্দ্রা চালক মিরাজ হোসেন লোকজন নিয়ে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন সিএনজি চালকেরা। এনিয়ে সিএনজি ও মাহেন্দ্র চালকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সিএনজি চালক শহীদুল ইসলাম জানান, মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কে সিএনজি ও মাহিন্দ্রা চলাচলের জন্য সিনেমা হলের সামনে মো. ছালাম রাড়ী সিরিয়াল (ক্রম) নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি মাঝে মধ্যে দুএকজন চালককে সিরিয়ালের আগে-পরে যাত্রী দিয়েও চলাচলের সুযোগ দিয়ে থাকেন। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শহীদুল মীরগঞ্জ থেকে মুলাদী সিনেমা হলের সামনে পৌছে যাত্রী নামিয়ে লাইনম্যান ছালাম রাড়ীকে ২জন যাত্রী দিয়ে পুনঃরায় মীরগঞ্জে যাওয়ার অনুমতি চান। ছালাম রাড়ী তাকে যাত্রী দিয়ে অনুমতি দিলে তিনি বেইলিব্রিজ এলাকায় পৌছলে মাহিন্দ্রা চালক মিরাজ হোসেন লোকজন নিয়ে পথরোধ করে এবং সিরিয়াল ভেঙে যাত্রী পরিহনের অভিযোগ মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা শহীদুলকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতলে ভর্তি করে। সংবাদ পেয়ে সিএনজি চালকেরা মাহিন্দ্র চালকদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মীরগঞ্জে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কে তাদের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। হুমায়ুন কবির নামের একযাত্রী জানান, ৩টার পর থেকে মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কে মাহিন্দ্রা ও সিএনসি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে বাস চলাচল কম থাকায় যাত্রীরা ভ্যান কিংবা অটোরিকশা নিয়ে চলাচল করছেন। সিএনজি পরিবহনব পরিচালক মো. কছির হাওলাদার বলেন, মাহিন্দ্রা চালকের অন্যায় ভাবে সিএনজি চালককে মারধর করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কে এই দুই যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এব্যাপারে মাহিন্দ্রা পরিচালক রুবেল হোসেন বলেন, মাহিন্দ্র ও সিএনজি চালকদের নিয়ে সমঝোতা করেই লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে সিরিয়াল মতো গাড়ী চলাচল করছে। সিরিয়াল ভেঙে সিএনজি চালক যাত্রী পরিহন করায় মারামারি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ বসে সমাধানের চেষ্টা চলছে।