রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ০৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার ২/৩ দিন পূর্বে যাত্রাবাড়ী হতে চিটাগাং রোডগামী লেগুনা স্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে আসামি মো. হৃদয় হোসেন (২৪)-এর সঙ্গে ভিকটিম লেগুনাচালক মো. নূরে আলম ইসলাম ওরফে খাইরুল (৩৫)-এর বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় আসামি ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভিকটিম লেগুনা চালানোর সময় যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানাধীন কুতুবখালী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি হৃদয় হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানায় মামলা নং- ৫৭, তারিখ- ২১/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রেক্ষিতে র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় র্যাব-১০, সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানাধীন কুতুবখালী মাছের আড়ৎ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যা মামলার ৫ নং এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহান মুন্সী (২৯), পিতা- শাহজাহান মুন্সী, সাং- বাহেরচর, থানা- মাদারীপুর সদর, জেলা- মাদারীপুরকে মামলা রুজুর ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১০ অভিযান অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তারিখ বিকেলে গেন্ডারিয়া (ডিএমপি) থানাধীন দয়াগঞ্জ মোড় এলাকা থেকে হত্যা মামলার ১ নং এজাহারভুক্ত আসামি মো. হৃদয় হোসেন (২৪), পিতা- মো. ফারুক হোসেন, স্থায়ী ঠিকানা- মাছর উদ্দিন, থানা- বাউফল, জেলা- পটুয়াখালী; বর্তমান ঠিকানা- ১ নং গলি, পুবালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-কে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন বিকাল আনুমানিক ১৬:২০ ঘটিকায় ৩ নং এজাহারভুক্ত আসামি মো. শাকিল (২৯), পিতা- মো. সেলিম, সাং- লেজাকান্দি, থানা- মতলব দক্ষিণ, জেলা- চাঁদপুরকে যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানাধীন মীর হাজিরবাগ পাইপ রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।