পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের সুবিধার জন্য বড় প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ থেকে ১৯ মার্চ। এবারের ঈদযাত্রায় শতভাগ টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে। ঈদের পর পার্বতীপুর স্পেশালের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন থাকবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারে চারটি করে টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম ও ফিরতি টিকিট রিফান্ডযোগ্য নয়।
পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে বিক্রি হবে। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) স্টেশন কাউন্টারে পাওয়া যাবে। ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল থাকবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা ও মনিটরিং জোরদার করেছে। ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। স্টেশন ও সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে, রেলপথ পেট্রোলিং ও কোচ-ইঞ্জিনের নিবিড় পরিদর্শন চলবে। জরুরি পরিস্থিতিতে রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্য গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “টিকিট বিক্রির নামে ভুয়া লিংক বা অফার দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা চাই যাত্রীরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে ঈদযাত্রা সম্পন্ন করুন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঈদের ১০ দিন আগে ও পরে ট্রেনে সেলুনকার সংযোজন বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঢাকাগামী কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ব্যবস্থা করা হবে।