ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় গত কয়েক বছরে কমেছে কৃষিজমি । অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, পুকুর খনন ও ইটভাটায় মাটি বিক্রি করার ফলে এই বিপুল পরিমাণ জমি কমেছে।
ব্যাপক হারে কৃষিজমি কমায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ধান, আলু, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ, সরিষাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এভাবে দ্রুত কৃষিজমি কমতে থাকলে এক পর্যায়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
ফুলবাড়ীয়া পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা। এ উপজেলায় এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল কৃষকদের জমি চুক্তিভিত্তিক কিছু টাকা দিয়ে ভেকু ভাড়া নিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর মত গর্তের সৃষ্টি হয় তা নিয়ে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
অনেক জমির ফসল নষ্ট হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে কৃষিজমি ছিল ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর। গত ১০ বছরে উপজেলা কৃষিজমি কমেছে ৩ হাজার হেক্টর। যা পূর্বে ছিল ৩২হাজার ৫০০ হেক্টর।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১৬টি গ্রামে দুই হাজার ২ হাজার ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার ২শত ৩০টি পুকুর রয়েছে। বিল রয়েছে ৮টি ২৬০ হেক্টর- নদী রয়েছে ৪টি -১১৩ বর্গকিলোমিটার।
উপজেলায় প্রায় ৩৩টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে কৃষিজমিতে। প্রায় প্রতিটি ইটভাটায় জমি রয়েছে পাঁচ থেকে আট একর পর্যন্ত। ইট তৈরি করতে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কিনে নিচ্ছেন ভাটার মালিকরা। ফসলের উর্বরাশক্তি বলে পরিচিত উপরিভাগের মাটি বিক্রি করায় এসব জমিতে এক-দুই বছর ফসল ফলাতে পারেন না কৃষক।
উপজেলার এনায়েতপুর ও ভবানীপুর ইউনিয়নের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় শত শত একর কৃষিজমি শিল্প-কারখানার মালিকরা কিনে নিয়ে দেয়াল দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। গড়ে উঠেছে কয়েকটি শিল্প-কারখানা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালালদের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দিয়ে এসব কৃষিজমি কিনছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় কৃষিজমির সংকট দেখা দেবে এই উপজেলায়।