মার্চ-এপ্রিল (০২) মাস অভয়াশ্রমে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটার সময় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর, চাঁদপুর এর আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপ্রধানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন,ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ কার্যক্রম সফল ভাবে সম্পন্ন করতে হবে।সেই লক্ষ্যে আগামী দুই মাস প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসক বলেন,নদী এলাকার যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ বড় ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করব, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন চরের মাটিকাটা বন্ধ করার পাশাপাশি ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাতীয় স্বার্থে নৌ পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড আরো বেশি তৎপর হবে। তিনি জাটকা নিধন থেকে জেলেদের বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
সভার শুরুতে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ এর কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
তিনি জানান, চাঁদপুর জেলাযর ৮ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে ৫৪ হাজার ১২১ জন।এর মধ্যে নারী জেলে রয়েছে ৪৪৮ জন(বেদে)। ইলিশ জেলে রয়েছে ৪৭ হাজার ২৭৫ জন। এবারের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচিতে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাঁদপুর জেলার চার উপজেলার ৩৯ হাজার ৪০০ জন চার মাস প্রতিমাসে চল্লিশ কেজি করে চাউল পাবে। ইতিমধ্যে জেলেদের খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জেলা টাস্কফোর্সের নিরবিচ্ছিন্ন চিরুনি অভিযান চলবে, যাতে কোন জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাটকা না ধরতে পারে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা,চাঁদপুর সদর ইউএনও এসএমএন জামিউল হিকমা, কোস্ট গার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লে. সিফাত খালিদ সিমন, নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ইন্সপেক্টর রাজীব চক্রবর্তী, কোস্ট গার্ডের আব্দুস ছামাদ, জেলা মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা,সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক, সমাজসেবা অফিসের মনিরুল ইসলাম, বিআরডিবির ডেপুটি ডিরেক্টর কামাল উদ্দিন,চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মানিক জমাদার, জেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক সুমন খান সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০- এর ধারা ৩ এর উপধারা ও এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ৬টি জেলা যথা: ভোলা,বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্ণীপুর, শরীয়তপুর জেলার মেঘনা নদীর উর্দ্ধ ও নিম্ন অববাহিকা, তেতুলিয়া নদী, আন্ধারমানিক নদী, পদ্মা ও কালাবদর নদীর ৪৩২ কিলোমিটার এলাকায় ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রাম ঘোষনা করেছে, যার মধ্যে ৫টি অভয়াশ্রমে (পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদী ব্যতীত) (দুই) মাস ইলিশ, জাটকাসহ (২৫ সে.মি./১০ ইঞ্চি সাইজের ইলিশ) সকল মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উক্ত মৎস্য আইন বাস্তবায়নের নিমিত্ত অভয়শ্রমে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, জনসচেতনতা সভা সহ অভিযান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ অভয়াশ্রম সংলগ্ন উপজেলায় সি:/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ০১ মার্চ, ২০২৬ তারিখের পূর্বে জাটকা না ধরা বিষয়ে জেলেদের অবহিতকরণের লক্ষ্যে অবহিতকরণ সভা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং মাছ ঘাট/আড়ৎ/বাজারে ব্যানার স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতনতা সভা আয়োজন, স্থানীয় মসজিদে নামাজের সময় অভয়াশ্রম সংরক্ষণের গুরুত্ব বিষয়ে ইমাম সাহেব কর্তৃক মুসল্লীদের বক্তব্য প্রদানসহ ব্যাপক প্রচারণা এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট জোরদারকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।