ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দখলদারদের কবল থেকে মন্দিরের জায়গা উদ্ধারের দাবীতে করা মানববন্ধনে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি মারধরে অন্তত ১০ জন নারী পুরূষ আহত হয়েছে। হামলার পরে মানববন্ধন কর্মসূচি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের রূপ ধারণ করে। ঘটনাস্থলে দ্রূত পুলিশ হাজির হয়। গত বুধবার বিকালে উপজেলার অরূয়াইল ইউনিয়নের বাদে অরূয়াইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। রাতেই ঘটনার সাথে জড়িত আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার আনোয়ারকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে ইউএনও ও ওসি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন অর্জুন সূত্রধর। সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অরূয়াইল-ধামাউড়া সড়কের ব্রীজের নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পাশ ও খাল ভরাট করছেন শহিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে খালের পানি প্রবাহ। আর পানি নিস্কাশন বন্ধ হলে অরূয়াইল বাদে অরূয়াইল দুই গ্রামের রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানিবন্ধি হয়ে পড়বে প্রায় ২ সহস্রাধিক পরিবার। খালের পাশাপাশি দখলদার মন্দিরের জায়গাও প্রতারণা করে দখল করছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া আছে। লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও। এরপরও শহিদ মিয়া গংরা দিনে রাতে চুপিসারে মন্দিরের জায়গা ও ওই খাল ভরাট করে চলছে। এরই প্রতিবাদে গত বুধবার দুপুরে মোহনলাল জিউর মন্দির থেকে শত শত নারী পুরূষ মিলে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। স্লোগান দিতে দিতে তারা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় জড়ো হন। এক পর্যায়ে তারা সেখানে মানবন্ধন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়ে দাঁড়ান। এই সময় শহিদ মিয়া ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদেরকে বাঁধা দেন। রোকন উদ্দিন নামের এক যুবক সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তাদের হামলায় অন্তত ১০ জন নারী পুরূষ আহত হয়। তাদেরকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অর্জুন সূত্রধরসহ মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩১ শতক ভূমিতে জিউর আখড়া মন্দির। বিএস জরিপে শহিদ মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে ২০ শতক জায়গা খতিয়ানভুক্ত করেছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শহিদ মিয়া মন্দিরের জায়গা ও খাল ভরাট করে দখল করছেন। মন্দিরের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন করতে গেলে শহিদ মিয়ার লোকজন হামলা চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের আহত করে। শহিদ মিয়া বলেন, মন্দিরের জায়গায় আমি মাটি ফেলিনি। যেটি খাল দেখছেন, সেটি আসলে জমি। মানববন্ধনে আমরা হামলা করিনি। অরূয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। আদালতে মামলা চলমান। তাই নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। খাল ভরাট করতে শহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি দিনে না পারলে রাতে ভরাট করে ফেলেন। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামী আনোয়ার মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী সোমবার শুনানীর দিন ধার্য্য করে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়েছি। মানববন্ধন কর্মসূচি ও হামলা ঘটনা শুনেছি।