ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৩ শতাধিক সদস্যের জমা করা প্রায় ৩কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সিভিল স্যোসাইটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম (সিএসএসপি) নামের একটি এনজিও। এনজিওটির বৃহস্পতিবার সদস্যদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ওই দিনই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে উপজেলা শহরের পয়ারকান্দি এলাকার ওই এনজিও কার্যালয়ে ভিড় করছেন সদস্যরা। বাড়ীর মালিকের পুত্রবধূর আশ্বাসে সদস্য ও টাকা দেয় বলে জানায় ভুক্তভুগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারী মুক্তাগাছা শহরের পয়ারকান্দির আমজাদ আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যালয় খোলে সিএসএসপি। বাড়ীর মালিকের পুত্রবধূ ঈশিতা আক্তার মিনারা কে ক্যাশিয়ার করে ভুয়া এনজিওটির এমডি জুয়েল ভিন্ন গ্রামে ৩ শতাধিক ব্যক্তি থেকে সদস্য ফি বাবদ ১শ ২০ টাকা ও ঋণ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১১ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় নেন। বৃহস্পতিবার সকালে সদস্যদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তাঁরা এসে দেখেন কার্যালয়টি তালাবদ্ধ এবং সাইনবোর্ড নামিয়ে পালিয়েছেন এনজিওর কর্মীরা। সঞ্চয়ের টাকা উদ্ধারের আশায় সদস্যদের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করতে দেখা গেছে।
কুমারগাতা ইউনিয়নের ঘোষবাড়ী এলাকার শিরিনা আক্তার(২৬) বলেন, ‘সাত দিন আগে দুই বছর মেয়াদি ঋণের আশায় বিমাসহ প্রথমে ৬শ ২০ টাকা দিয়ে ভর্তি হই। পরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ১৩ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করতে বলে। তখন টাকা জমা করলে বৃস্পতিবার ১২টার সময় ঋণ নিতে অফিসে আসতে বলেন এনজিওর কর্মী। এসে দেখি, অফিসে তালা লাগিয়ে তারা পালিয়েছেন। মানকোন গ্রামের নার্গিস আক্তার (৪৫) বলেন, ম্যানেজার জুয়েল ও ক্যাশিয়ার মিনারা বাড়ী গিয়ে ঋণের কথা বলে। কেন্দ্রের নেতা বানাবে এবং সদস্য করে দিলে প্রতিমাসে ৮শ করে টাকা দেবার কথা বলে। ‘সাত জনেরে ১৭ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় তিন দিন আগে ৭০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি এনজিওটি নাই, তারা টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ঋণ পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আরও বিপদে পড়ে গেলাম। আমরা এই প্রতারকদের বিচার চাই। কার্যালয় বানানোর জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া আমজাদ আলীর ছেলে রাসেল বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই এনজিওর ম্যানেজার জুয়েল রানা আমার বাড়িটি ভাড়া নেয়। কিন্তু তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারে ভাড়া, এডভান্স ও চুক্তিপত্র হওয়ার তারিখ ছিলো। মঙ্গলবারের পরে তাদের আর খুঁজে খুঁজে পাইনি। বাড়ির মালিকের পুত্রবধূ ও এনজিওর ক্যাশিয়ার ঈশিতা আক্তার মিনারা বলেন, তারা আমাদের বাড়ী ভাড়া নিতে আসে। বৃহস্পতিবার ভাড়ার চুক্তির টাকা দেবার কথা। এর আগে আমাকে চাকরি দেবার কথা বলে ৫০ হাজার টাকাও নেয়। পরে তাদের সাথে গ্রাহকের বাড়ী যাই। তবে মিনারা নিজের হাতে টাকা নেবার কথা অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে এনজিওটির ম্যানেজার জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদস্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।