সরাইলে গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
সরাইলে গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সীমা রানী বিশ্বাস (২৮) নামের এক গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা শাহবাজপুর ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার স্বামীর বসত ঘরের টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে ভেতর থেকে সীমার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরই ঘা ঢাকা দিয়েছেন  নিহতের স্বামী রঞ্জন চন্দ্র বিশ্বাস। কেরোসিনের গন্ধ ও আগুনে পোড়ায় বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রঞ্জন চন্দ্র বিশ্বাস শাহবাজপুর দ্বিতীয় গেইট এলাকায় জুতার ব্যবসা করেন। অনেকটা সহজ সরল প্রকৃতির লোক তিনি। সকালে খাওয়া দাওয়া করে স্ত্রী সন্তানদের বাড়িতে রেখেই রঞ্জন দোকানে চলে যান। রঞ্জনের পাশের কক্ষেই বসবাস করছেন তার ভাই ও ভাবী। দুপুরের দিকে হঠাৎ টয়লেট ভেতর দিয়ে লাগানো তাদের মা ও নেই। কিছুক্ষণ পরই টয়লেটের ভেতর থেকে দুই সন্তানের জননী সীমা রানী বিশ্বাসের আর্তচিৎকার ভেসে আসে। দুই শিশু সন্তান ও পরে রঞ্জনের ভাইয়ের স্ত্রী চিৎকার শুরূ করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী ও আশপাশের লোকজন দৌঁড়ে আসেন। তারা এসে দেখেন টয়লেট ভেতর দিয়ে লাগানো। কেউই ওই টয়লেটের দরজা খোলার সাহস করেননি। ওয়ার্ড মেম্বার মালেক মিয়া বলেন, আমি এসে দেখি কেরোসিনের গন্ধ লাগছে। পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে দেখেন ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সীমা রানীর মরদেহ পড়ে আছে। শরীর অধিকাংশ অংশ পুড়ে ছাঁই। চামড়া খসে পড়ছে। দুই শিশু সন্তানকে জিজ্ঞেস করলাম সকালে তোমার বাবা মায়ের মধ্যে কোন ঝগড়া হয়েছে? তারা বলল না। পুলিশ লাশ নিয়ে গেলেন থানায়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই বলছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বি ওই মহিলা নিজের শরীরে নিজে আগুন দিতে পারেন না। এর পেছনে অবশ্যই কোন রহস্য আছে।  প্রসঙ্গত: সীমা রানী হবিগঞ্জ জেলার হাবগঞ্জ সদর উপজেলার এড়ালিয়া গ্রামের রানু চন্দ্র শীল ও জোসনা শীল এর কন্যা। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূর লাশ উদ্ধার মযনা তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে কোন ধরণের অভিযোগ এখনো পাইনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে