রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্তে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলে একতরফা প্রতিবেদন নিতে মরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ। এজন্য তদন্তের দিনে বাদীর ওপর মারমুখী আচরণ হট্টগোল ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মব সৃষ্টি করা হয়। ফলে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের কৃষি অফিস ও ইউএনও অফিসের সামনে ঘটে হট্টগোল ও মব সৃষ্টির ঘটনা। এঘটনায় কলেজ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন কলেজ শিক্ষক কবিরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এদিকে তদন্তের জন্য বাদী আব্দুস সালাম সরেজমিনে কলেজে গিয়ে তদন্তের দাবীতে উপজেলা নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। ফলে রোববার ফের তদন্তের দিন ধার্য্য করা হবে মর্মে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ সহ ৪টি পদে নিয়োগ দেবার আগেই প্রায় কোটি টাকার লেনদেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি ভাইরাল হয়ে পড়ে। এছাড়া জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয় কলেজ শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক অভিযোগ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দেন ওই এলাকার শিক্ষানুরাগী আব্দুস সালাম মাস্টার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে কৃষি অফিসে তদন্তের জন্য বাদী ও বিবাদীকে উপস্থিত হতে নোটিশ প্রদান করা হয়।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে তদন্ত শুরু হওয়ার আগে অফিসের নিচে রাস্তায় নিয়োগের পক্ষের শিক্ষক ও বিপক্ষের শিক্ষকদের মাঝে মারমুখী আচরণ ও মব সৃষ্টি করে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক শিক্ষকসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীসমর্থক। এজন্য সেদিন তদন্ত স্থগিত করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি টক অব দ্যা তানোরে পরিণত হয়েছে।
আব্দুস সালাম মাস্টার জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের কর্তৃপক্ষ হচ্ছে এনটিআরসিএ। (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ)। কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। কলেজে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বন্ধে ১২ জানুয়ারি অভিযোগ দেন। বৃহস্পতিবার তার অভিযোগের তদন্ত করা হবে মর্মে তাকে বুধবার উপজেলা কৃষি অফিসার নোটিশ দেন। নোটিশে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে দুপুর দুইটার দিকে উপস্থিত হতে বলা হয়। এমন নোটিশ পেয়ে কৃষি অফিসারকে কলেজে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এজন্য লিখিত আবেদন নিয়ে যান। কিন্তু কৃষি অফিসার সাব জানিয়ে দেন তাকে তদন্তের জন্য ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে তিনি আবেদন গ্রহণ করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে ইউএনওর দপ্তরে সময়ের আবেদন করেন। তার রিসিভ কপি নিয়েছেন। কিন্তু তদন্তে পেশিশক্তির মহড়া দেখিয়ে বাধা হয়েছে। এজন্য রমজান মাস ও ঈদ পর কলেজ খোলা হলে সরেজমিনে তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি অসুস্থ বোধ করছেন এজন্য বাড়ি চলে গেছেন। তাকে কৃষি অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী মোবাইল করেছিলেন। তিনি কারণ জানিয়ে দিয়েছেন। তাকে ছাড়া তারা যদি তদন্ত করে তাহলে করতে পারে।
শিক্ষক কবির ও মুখলেস বলেন, এখন কলেজ ছুটি। আর ঘরে বসে এসব তদন্ত হয় না। তবে, নিয়োগের সাথে যারা জড়িত তারা নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগের আগেই যদি প্রার্থী ঠিক করা হয় তাহলে তো নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হোক।
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কোন ধরনের টাকা পয়সা লেনদেন করা হয়নি। জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়নি। সালাম না জেনে এসব করেছেন। সময়ে সব কথা হবে বলেও দাম্ভিকতা দেখান তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ ও উপজেলা প্রকৌশলী নুরনাহান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলে একতরফা প্রতিবেদন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১ মার্চ রোববার শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করা হবে। ওই দিন অনুপস্থিত থাকলে সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, তালন্দ কলেজে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলে একতরফা প্রতিবেদন নেওয়ার সুযোগ নেই। ই/তা