গোমস্তাপুরের আমগাছে মুকুলের সমারোহ, বাতাশে ছড়াচ্ছে ঘ্রান

এফএনএস (মোঃ আল মামুন বিশ্বাস; গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :
| আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম | প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
গোমস্তাপুরের আমগাছে মুকুলের সমারোহ, বাতাশে ছড়াচ্ছে ঘ্রান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। আমের মৌসুম আসলেই এই অঞ্চলের কর্মযজ্ঞতা ও পরিবেশ অন্যরকম রূপ ধারণ করে। শীতের তীব্রতা কাটিয়ে আমবাগানগুলোতে ফুটতে শুরু করে মুকুল। বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে ফুটেছে মুকুল। সারি সারি গাছের ডালে শোভা পাচ্ছে হলুদ ও সবুজের মহামিলন। মুকুলের সমারোহে বাতাসে বইতে শুরু করেছে পাগল করা ঘ্রান। অন্যান্য প্রতিটি গাছে আসতে শুরু করেছে মুকুলের মোহে গুটি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ ধারণা করছেন। অন্যদিকে বাগান মালিকরা এ বছর আমের বাম্পার ফলনের হবে বলে আশা করছেন। স্বপ্ন দেখছেন গতবারের তুলনায় বেশি আয়ের। চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুরে ৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২৭ মেট্রিকটন।  উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে। সেইসাথে দেশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। উপজেলায়, কাটিমন ১ হাজার ১০ হেক্টর, আশ্বিনা ৯০০ হেক্টর, ফজলী ৫৭০ হেক্টর, ল্যাংড়া ২৭০ হেক্টর, গোপালভোগ ১০০ হেক্টর, খিরসাপাত ২৫৫ হেক্টর, বোম্বাই ১৫ হেক্টর, লক্ষণভোগ ১৮৫ হেক্টর, আম্রপালি ৪৯০ হেক্টর, বারি-১১ ১১০ হেক্টর, বারি-৪ ২০৫ হেক্টর, গৌড়মতি ১১০ হেক্টর, হাড়ি ভাংগা ৫ হেক্টর,কাচামিঠ ও দুধস্বর ১ হেক্টের, ব্যানানো ম্যাংগো ৪০ হেক্টর, অন্যান্য গুটি জাতীয় ১২৩ হেক্টর জমিতে গাছ রয়েছে। এসব গাছে ৯২% মুকুল আসার সম্ভাবনা আছ। গোমস্তাপুর উপজেলার আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি আমগাছ মুকুলিত হয়ে আছে। শোভা পাচ্ছে গাছের ডালে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। মুকুলের আশেপাশে ঘুরছে মৌমাছির আনাগোনা। অনেকেই মুকুল রক্ষা করতে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ গাছের গোড়ায় পানি বদ্ধ করে রাখছে। এদিকে আমকে নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা করতে দেখা গেছে। অনেক আমবাগান মালিক বলছেন এ বছর আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।  আম চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, তাঁর লিজ নেওয়া ৫ বিঘা জমিতে আশ্বিনা, কাটিমন জাতীয় আম রয়েছে। তিনি প্রথমে বাগানের গাছে রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করছেন। মুকুলের আগে এইসব স্প্রে করলে গাছের সজীবতা বৃদ্ধি পায়, পোকামাকড় মুকুল থেকে বিরত থাকার ফলে গাছে মুকুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় তাতে ফলনও বৃদ্ধি পায়। তাঁর বাগানে আসতে শুরু করেছে আমের গুটি। বড় ধরণের কোন দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে তিনি আশাবাদী। রহনপুর এলাকার উজির নামে আরেক চাষী বলেন, গাছের গোড়ায় পানির সেচ দিচ্ছি। গাছের ও মুকুল ক্ষতির রক্ষার্থে। পরিচর্চা করলে গাছে আমের ফলন ভাল হয়। মুকুলে রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন। এবার বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।অনেক আমচাষী ও বাগানমালিকরা বলেন , অনেক আগাম জাতের আমগাছে দানা ও গুটি চলে এসেছে । ফলন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিচর্চা করা হচ্ছে। তাঁরা ধারণা করছেন গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ লাভবান হবেন। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন বলেন, আমগাছের গুটি আসতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে গাছে আম বড় হতে শুরু করবে। প্রথমে মুকুল আসার আগে ও পরে এবং মুকুল মটর দানা বাধার সময় একটি ছত্রাকনাশক ও একটি কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে হপার পোকাসহ অন্যান্য রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমন না হয় । তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলায় আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬২৭ টন। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রায় চেয়ে বেশি আম উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে