সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের পর এবার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ নিয়েও চলছে আলোচনা। চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন চাঁদপুর জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যাহ সেলিম। বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক এবং সভাপতি, চাঁদপুর শহর বিএনপি'র দুইবারের সাবেক সেক্রেটারি, চাঁদপুর পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তি সৌধ নির্মান কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির বারো বছর মহাসচিব,তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি চাঁদপুরে 'বলাকা' নামক প্রথম পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি অসংখ্য সংগঠনের সাথে জড়িত। চাঁদপুর বাসী তাকে একজন দক্ষ সংগঠক এবং আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের লড়াকু ত্যাগী ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে চিনেন এবং জানেন। সকল মহলের কাছে রয়েছে তার পরিচিতি এবং গ্রহণ যোগ্যতা। অ্যাড.সেলিম দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সেই সঙ্গে বিগত দিনের দলটির আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক একাধিক মামলার আসামিও ছিলেন তিনি। অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে চাঁদপুর -৩ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। এবং চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে দলের প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সার্থকতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। কর্মময় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজে সর্বস্তরের মানুষের সাথে উঠাবসা ছিল তাঁর। কিন্তু কখনো কোথাও কোন কিছু হতে চাননি।এইবার জেলা পরিষদে সরকার যদি প্রশাসক নিয়োগ করেন সেটি তার প্রাপ্য। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি এবার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট সারাদেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়। অপসারিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের স্থলে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।