প্রায় ১৯ মাস বসবাসের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। তার প্রস্থানের পর ভবনটি সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ড. ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যমুনায় বসবাস করছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও তিনি সেখানেই ছিলেন। সম্প্রতি যমুনায় ওঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পর থেকেই ভবন ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ইউনূসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল ৩টার দিকে তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন এমন নির্দেশনা আমাদের কাছে ছিল। পরে সোয়া ৩টার দিকে তিনি যমুনা ছেড়ে চলে যান।” পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যমুনা ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রতিনিধি দল ড. ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামছুল ইসলাম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কিছু ব্যক্তিগত মালপত্র ছিল, সেগুলোও তিনি নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকবেন বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। মাসখানেক সময় লাগবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কিছু কাজ আছে, তা করতে।”
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই ভবনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্কার শেষে যমুনা প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মুহূর্তে যমুনায় উঠবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বর্তমানে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।
এর আগে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমান দায়িত্বকালীন সময়ে যমুনায় অবস্থান করেছিলেন। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও এ ভবনে থেকেছেন।
ড. ইউনূসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে যমুনা এখন নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়।