মোল্লাহাটে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০

এফএনএস (এম এম মফিজুর রহমান; মোল্লাহাট, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
মোল্লাহাটে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উত্তরকুলিয়া এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (বিকাল প্রায় ৪টা) মিজান চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে মহিলা সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত উল্লাহ মোল্লাসহ ৫ জনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দু’জনের পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর জখম হয়েছে এবং আরও দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) এ স্থানান্তর করা হয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুলিয়া গ্রামের ডালিম ও আরিফুল নামের দুই ব্যক্তি দারিয়ালা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। তাদের সন্দেহ ছিল, একই এলাকার আয়াত উল্লাহ তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আয়াত উল্লাহকে না পেয়ে তার বড় ভাই অলিদ (৫০)-কে গত শুক্রবার মারধর করেন। আহত অলিদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে শনিবার বাড়ি ফেরেন। এদিন অলিদকে দেখতে স্বজন ও সমর্থকরা বাড়িতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত উল্লাহ মোল্লা (৪৭), তার ভাই এনায়েত উল্লাহ (৪২), বোন গোলেনুর (৫৫), শাহ আলম (২৮) ও সেফায়েত (৬৫)। প্রতিপক্ষের আহতদের নাম ও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত উল্লাহ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার ছোট ভাইকে মাদক থেকে ফেরাতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এ কারণে তার ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকা মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় ডালিম ও তার পক্ষের লোকজন তার ভাই অলিদকে মারধর করে। শনিবার হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পর আবারও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া অপরাধীদের খোঁজখবর ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।