ছেলের চিকিৎসায় ভিটামাটি বিক্রি করে নিঃস্ব মা

এফএনএস (হারুন অর রশিদ; বাউফল, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ছেলের চিকিৎসায় ভিটামাটি বিক্রি করে নিঃস্ব মা

চিকিৎসা খরচ মেটাতে ভিটা মাটি  সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বিধবা মা মমিননেছার চোখের সামনে চিকিৎসার অভাবে  নিভে যাচ্ছে একমাত্র  ছেলে  জহিরুল (৩১) নামের এক যুবকের  জীবন প্রদীপ। ঘাতক লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ  চিকিৎসা খরচ  চালাতে ব্যর্থ হয়ে  জহিরুল এখন মৃত্যু পথযাত্রী, অথচ বাঁচতে চায় জহিরুল।  জহিরুল পটুয়াখালী জেলার  বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের  ০৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃতঃ  আলতাফ হোসেনের ছেলে।  জানা গেছে,  জহিরুল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাশ করে ঢাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাকে নিয়ে চলছিল তার স্বাভাবিক জীবন। বিধি বাম, ২০২৫ সালের শুরুতেই হঠাৎ জহিরুল অসুস্থ হয়ে পড়ে,  ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে,  অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে ডাক্তার জানান তিনি লিভার ক্যান্সার আক্রান্ত।  হঠাৎ যেন বজ্রপাত হয় তাদের মাথায়।  ওলটপালট হয়ে যায় মা ছেলের সুখের সংসার। 

স্থানীয় চিকিৎসা থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসা নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর (সাবেক পিজি) ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে।  পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নেয়,  কিন্তু দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।  চিকিৎসকরা তাকে ভারতের হায়দরাবাদের একটি ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।  ভিসা জটিলতায় সে পথও বন্ধ হয়ে যায়। শেষ আশাটুকু নিয়ে গত ২৬ আগস্ট জহিরুল চিকিৎসা নেন চীনের ফুদা ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানে এক মাস চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারকে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের একমাত্র বসতভিটা। তবুও চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ হয়ে গেছে সব সঞ্চয়, সব সম্বল। আজ জহিরুল তার অসুস্থ শরীর আর ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে অর্থাভাবে আশ্রয় নিয়েছেন বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বোনজামাই মনজুরুল আলমের বাড়িতে। চিকিৎসকদের মতে, আরও তিনটি কেমোথেরাপি, নিয়মিত ওষুধ এবং পুনরায় চীনে চিকিৎসা নিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কেমোথেরাপি তো দূরের কথা প্রতিদিনের ওষুধও কিনতে পারছেন না। প্রতিদিন শুধু ওষুধেই প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা। ছেলের শয্যার পাশে বসে মা মমিন নেচ্ছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার ছেলেটা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। আমি একজন মা হয়ে কিছুই করতে পারছি না। সরকার বা কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমার সন্তানটা আবার বাঁচার সুযোগ পাবে।” এক সময়ের কর্মঠ, হাসিখুশি এই যুবক আজ নিঃশব্দে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। মানবিক সহানুভূতির অপেক্ষায়। সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের একটু সহায়তাই পারে একটি প্রাণ ফিরিয়ে দিতে। জহিরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠাতে আগ্রহীরা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, পান্থপথ শাখা, ঢাকা, হিসাব নম্বর: ০০৫০১২০০১২৯০৪ (হিসাব নাম: জহিরুল ইসলাম) এছাড়া বিকাশ ও নগদ নম্বর: ০১৮৫৫৭৭৮৯৬৮ অনুদান পাঠাতে পারেন।  নিজের  জীবন বাঁচাতে জহিরুলের  দুটি চোখ তাকিয়ে আছে সমাজের দানশীল, বিত্তবান বা সরকারী বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতার পথপানে।  শেষ ইচ্ছা পূরণ হবে কি জহিরুলের?

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে