কৃষি প্রধান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা মোল্লাহাটে সার ও কীটনাশক বিক্রিতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বৈধ ডিলার ও অবৈধ বিক্রেতাদের একটি চক্র সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার ও কীটনাশক বিক্রি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক এবং নিষিদ্ধ ও অবৈধ কারখানায় উৎপাদিত নিম্নমানের সার কম দামে কৃষকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ফলে কৃষকরা একদিকে বেশি দাম দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন না-দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট ৭টি ইউনিয়নে ৭ জন অনুমোদিত ডিলার এবং ৬৩টি ওয়ার্ডে ৬৩ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এদের বাইরে অন্য কেউ সার বিক্রি করতে পারবেন না। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনুমোদনহীন অনেক ব্যক্তি প্রকাশ্যে সার ও কীটনাশক বিক্রি করছেন। অভিযোগ আছে, ইউনিয়ন ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে অবৈধ বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করেন। পরে এসব অবৈধ বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে আরও বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক ও বৈধ খুচরা ডিলাররা; লাভবান হচ্ছেন একটি অসাধু চক্র। কৃষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আবার কম দামে মানহীন বা নিষিদ্ধ সার ব্যবহারের ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমানের সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেসক্লাব মোল্লাহাট-এর একটি দল অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করলে ইউনিয়ন সার ডিলারদের একাংশ সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টায় সাড়া না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হবে বলেও হুমকি স্বরূপ উল্লেখ করেন এক ডিলার। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের দাবি, বাজার মনিটরিং জোরদার, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে এ অনিয়ম বন্ধ হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই পারে কৃষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে।