মেহেরপুরের গাংনীতে রেড পাম্প উইভিল পোকার আক্রমণে প্রায় ২ হাজার তালগাছ নষ্ট হয়ে গেছে।আক্রান্ত হচ্ছে আরো অনেক তালগাছ। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে আজ সোমবার দুপুরে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একদল বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গাংনী উপজেলার চিৎলা পাট বীজ খামার এলাকার তালগাছ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। খামার সূত্রে জানা গেছে,গত ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক তালগাছ রোপন করা হয়।কিন্তু হঠাৎ ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে তালগাছগুলো মারা যাচ্ছে।তালগাছের কাণ্ড নষ্টকারী পোকার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ তাল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এতে বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তোলে।আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানাই। খামারের কর্মচারীরা জানান, কয়েক মাস ধরে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।এভাবে ক্ষতি অব্যাহত থাকলে তাল গাছের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। বৃক্ষ প্রেমী ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন বলেন, আমি প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ তালগাছের বীজ লাগিয়েছি।আমার এই কার্যক্রম ২০১৮ সাল থেকে চলমান রয়েছে।এটা আমার ব্যক্তিগত,সমিতের মাধ্যমে,এছাড়াও সাংগঠনিকভাবে এই তালগাছের চারা লাগিয়েছি।এই কাজগুলো আমি নিঃস্বার্থভাবে করেছি।এই গাছগুলো যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে তখন থেকে আমি তাদের সন্তানের মত লালন পালন করে আসছি।কিন্তু কিছুদিন ধরে যখন গাছগুলো দেখছি মারা যাচ্ছে তখন আমার যে কি কষ্ট হচ্ছে তা কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আজ তিন সদস্যের একটি বৈজ্ঞানিক টিম সহ কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনা স্থানে আসেন।তারা যেভাবে দিকনির্দেশনা দিলেন আমি সেইভাবে এখন কীটনাশকগুলো প্রয়োগ করবো। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি চিৎলা ফার্মের তালগোছগুলো মারা যাচ্ছে।আমরা সরেজমিনে এসে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছি এটা রেড পাম্প উইভিল।আর এই রেড পাম্প উইভিল এর কারণে তালগাছগুলো মারা যাচ্ছে। এটার আক্রমণ অনেক আগের কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।যেহেতু অনেক গাছ মারা যাচ্ছে।তাই আমরা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিষয়টি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করি।তারই প্রেক্ষিতে আজ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বৈজ্ঞানিক টিম সরেজমিনে এসেছেন।তারা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন আমরা সেভাবের কাজ করবো, দেখা যাক আমরা এ রোগের কতটুকু সমাধান করতে পারি। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, গাংনীতে রেড পাম্প উইভিল নামক পোকার আক্রমণে তালগাছ মারা যাচ্ছে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা একদিন পরেই তিন সদস্যদের একটি বৈজ্ঞানিক টিম এখানে আসে।তারা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছে আমরা সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবো। ড. মো. নুর আলম (প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট পাবনা) বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পারি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পোকার আক্রমণে তালগাছ মারা যাচ্ছে।আদেশ পেয়ে আমরা দ্রুত পরিদর্শনে আসি।এখানে যে তালগাছগুলো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে মারা গিয়েছে এই পোকাটার নাম 'রেড পাম্প উইভিল'।এই পোকার লার্ভাও অনেক ক্ষতিকর।সাধারণত গাছের কান্ডগুলো নরম থাকার কারণে দ্রুত নষ্ট করে ফেলে।যেহেতু এই তালের কাজগুলো একেবারে ছোট তাই এই পোকার দ্রুত গাছগুলো নষ্ট করে ফেলেছে।এ রোগ দ্রুত সনাক্ত করতে না পারলে এই গাছগুলো রক্ষা করার উপায় থাকে মাত্র ২% মত।দ্রুত সনাক্ত করতে না পারলে এই কাজগুলো মারা যায়।যে সকল কীটনাশক প্রয়োগ করলে রেড পাম্প উইভিল থেকে তালগাছগুলো রক্ষা করা যায় আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি।আশা করি এই কীটনাশকগুলো প্রয়োগ করলে বাকি তালগাছগুলো এই পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পাবে। এসময় . ড. মো: আনিসুজ্জামান (প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা),ড. মো: শামসুদ্দিন আরোফিন (প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা) সহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।