কুয়াকাটায়

মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে পা থেঁতলে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে পা থেঁতলে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

পটুয়াখালী কলাপাড়ার কুয়াকাটায় মাদক সেবন করতে বাঁধা দেয়ায় হোটেল মালিক লোকমান মৃধাকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা থেঁতলে দিয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে দুটি দাত ভেঙ্গে দিয়েছে।  রবিবার রাতে কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় সাত নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য রাসেল খানের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত হেটেল ব্যবসায়ীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ  করা হয়েছে। এ হামলার কথা স্বীকার করে যুবদল নেতা রাসেল বলেন, তাকেও ২০১০ সালে মারধর করেছিলো। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হামলার ংবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও থানায় মামলা হয়নি।  আহত লোকমাম মৃধা হোটেল কুয়াকাটা প্যালেস-এর মালিক। এ হোটেলে মালামাল ক্রয়ের টাকা পাওনা নিয়ে রাসেলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তার হোটেলে প্রায়ই মাদক সেবন করতে আসতো রাসেল ও তার সহযোগীরা।  রোজার মধ্যে এ অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় লোকমানের উপর ক্ষিপ্ত হয় রাসেল। ঘটনার সময় লোকমান তার হোটেলের সামনে বসে ছিলো। হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার দুই পা থেঁতলে দেয়। এতে তার দুটি দাঁত পড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটার ২০ শয্যা আসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আহত লোকমানের পরিবারের অভিযোগ, কুয়াকাটার রাখাইন মহিলা মার্কেটের ঝিনুক ব্যবসায়ী রাসেল খান ও মিরাজ তার হোটেলে গিয়ে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তবে হোটেলে গিয়ে মাদক সেবন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসেল খান। তার সাথে টাকা পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় এ বিরোধ আরও বাড়ে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে তার উপরও হামলা করেছিলো লোকমান। এ কারনে তিনি একাই তার উপর হামলা করেছেন বলে স্বীকার করেন। এবিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, যুবদল কোন অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দিবে না। রাসেল ঘটনায় জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।  এ হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত খান  বলেন,ঘটনার পরই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে।  তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে