ঘুম থেকে ডেকে হত্যা: ৩ জনের প্রাণদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ঘুম থেকে ডেকে হত্যা: ৩ জনের প্রাণদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মুন্সিগঞ্জে ঘুম থেকে ডেকে নির্মমভাবে হত্যা করা শ্যামল বেপারী মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।

আদালত সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন।”

রায় ঘোষণার সময় আসামি শাহাদাত বেপারী কারাগারে ছিলেন। ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার ও লিটন বেপারী পলাতক। অপর ছয়জন জামিনে ছিলেন। জাহাঙ্গীর বেপারী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেন। তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৩ সালের ১৩ জুন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন শ্যামল বেপারী। পূর্ব বিরোধের জেরে রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত তার হাতে দুটি গুলি করেন। জাহাঙ্গীর পায়ে গুলি করেন। ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করেন। আরও দুজন গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তাকে টেনে হিঁচড়ে উঠানে নেওয়া হয়। সেখানে মারধর করা হয়। হাবিব মাথায় গুলি করেন। এরপরও শ্যামলের মুখ দিয়ে গোঙানি শোনা গেলে শাহাদাত চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ দেন। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় আসামিরা।

বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু বিষয়টি ফোনে শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে জানান। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন, ইব্রাহিম মিয়া মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ এ পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই, ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি শাহাদাত বেপারী ও হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। মামলাটি স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচিত ছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে