শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করে ছিলেন। তৎকালিন সময় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া বাজার সংলগ্ন একটি খাল নিজের হাতে কোদাল নিয়ে খনন করেন। দেশের কৃষি বিপ্লব বেগবান করার লক্ষ্যে জিয়ার ঐতিহাসিক খালকাটা কর্মসূচির স্মৃতি চারণের ধারাবাহিকতায় চিতলমারী উপজেলা প্রতিনিধির সাথে স্থানীয় শিক্ষক আরিফুজ্জান প্লাবণ (৩৮) ্টওে সাথে কথা হলে তিনি বলেন পেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের এক ঐতিহাসিক সফলতা।
যদিও আমি তখন জন্ম গ্রহন করিনি, তবে এলাকার মুরব্বিদের কাছে শুনেছি পেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টর যোগে বড়বাড়িয়া বাজারের পাশে অবতরন করেন এবং নিজহাতে কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে খাল খনন করেণ। দু:খের বিষয় কালের বিবর্তনে সে খালটি এখন মৃত: প্রায়। নেই গভীরতা, নেই স্রোতধারা। দুই পাড়ের অনেক জায়গা ভূমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছে। খানটি পূনঃ খননের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
তৎকালিন প্রত্যক্ষদর্শী চিতলমারী থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এফএম ফরহাদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বাগেরহাট ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যছিল, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। সে কারনে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বয়ং সরাসরি এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছিলেন। এ সময় চিতলমারী থানার কৃতি সন্তান এড. সৈয়দ মোজাহিদুর রহমান(মনির) জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় মিলু ফকির (৮০) বলেন সকালে শুনতে পেলাম জিয়াউর রহমান বড়বাড়িয়া বাজার সংলগ্ন খালকাটার উদ্বোধন করেবেন। একটু পরে হেলিকপ্টার এর শব্দ শুনতে পাই, দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পাই তিনি নিজের হাতে কোদাল নিয়ে খাল কাটছেন এবং ঝুড়ি তুলে দিচ্ছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মালেক উকিলের মাথায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান খান, মো: আব্দুর রায়হান, মো: জামাল খান, মো: শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা সহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উক্ত খালটি পূনঃখননের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জেষ্ঠ্যপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিরোজপুর তৎ সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যক্তিগতভাবে খাল খনন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন বৃহত্তর বরিশাল, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা সহ এ অঞ্চলের কৃষকদের অনুপ্রাণিত করেছিল। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষ সরাসরি কায়িক শ্রমের মাধ্যমে অংশ নিয়ে ছিলেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৩,৬৩৬ মাইল বা প্রায় ৫,৮০০ কিলো মিটার খাল খনন করা হয়েছিল, যা জাতীয় জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে ।