রাজবাড়ীর পাংশায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে চার মাদকসেবীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে পাংশা থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে চারজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে। পরে দুপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেককে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাংশা পৌরসভার মাগুরাডাঙ্গী গ্রামের মো. বাদশা শেখের ছেলে মো. মানিক শেখ (২৮), আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে মো. সরোয়ার সরদার (৪৫), মিন্টু শেখের ছেলে আকাশ শেখ (২১) এবং মৃত বানাত আলী শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পাংশা পৌর শহরের মাগুরাডাঙ্গী মহিলা কলেজের পাশ থেকে মো. মানিক শেখ, মো. সরোয়ার সরদার ও আকাশ শেখকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাগুরাডাঙ্গী পশ্চিমপাড়া আবুল কমিশনারের বাড়ির এলাকা থেকে উজ্জ্বল শেখকে আটক করা হয়। দণ্ডাদেশ প্রদানের পর থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে মাদকের ব্যবহার ও অবৈধ ব্যবসা নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এর আগে সোমবার (০২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাংশা থানাধীন পৌরসভার সত্যজিতপুর এলাকা থেকে মো. সুজন কাজী (২৮)-এর কাছ থেকে ২০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। সে পাংশা পৌর শহরের সাবেক নারায়নপুর এলাকার নজরুল কাজীর ছেলে।
এছাড়া একই দিন রাত পৌনে ১২ টার দিকে নারায়নপুর এলাকার পাংশা সাব-রেজিস্টার অফিসের সামনে থেকে মো. আবু রাশেদ (১৯)-এর কাছ থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার হাবাসপুর ইউপির শাহমীরপুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান (হবি)-এর ছেলে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক দুজনের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা রুজু করে তাদের গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।