বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও উত্তরণের বড় বাধা দুর্নীতি: উপায়

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও উত্তরণের বড় বাধা দুর্নীতি: উপায়

গবেষণাধর্মী সামাজিক সংগঠন "উপায় ট্রাস্ট" এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বিকাল ৩.৩০ মিনিটে পুরনো পল্টন মোড় ব্যাংক এশিয়া ভবনের রূপ টপ রেস্টুরেন্টে "চলমান অর্থনীতি: আমাদের প্রত্যাশা" শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে উপায় এর মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের একটি উদীয়মান অর্থনীতি। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে উঠে এসে দেশটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প ও সেবানির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। World Bank, International Monetary Fund Ges Asian Development Bank-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নীতি-সংকটের কারণে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ এবং উত্তরণের কার্যকর উপায় :

অর্থনৈতিক অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র: বাংলাদেশ গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন এসব ক্ষেত্রে সাফল্য স্পষ্ট। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে যার মধ্যে পদ্মা সেতু একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উন্মোচিত করেছে। তবে এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ:

১. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছে। দেশের গত ১৭ বছরের মূল্যস্ফীতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৯-২০২১ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৫-৭% এর মধ্যে ছিলো যা অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল। তবে ২০২২ থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ (জ্বালানি, খাদ্য, সরবরাহ চেইন ইত্যাদি) ও করোনা পরবর্তী খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২২ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৭.৭০% বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ এ মূল্যস্ফীতি প্রায় দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। ২০২৩ সালে ৯.৮৮ এবং ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ১০.৪৭ % হয়। আর গত বছর ২০২৫ সালে কিছুটা কমে হয় ৮.৮ %।

২. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট: রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পরও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা কঠিন হয়েছে, যা শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধিও এই সংকটকে তীব্র করেছে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০২১ সালে রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে স্পর্শ করেছিল, যা পরবর্তীতে দ্রুত কমে যায়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এটি প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার বা তার নিচে নেমে গিয়েছিল। ২০২৫ এর শুরুর দিকে রিজার্ভ আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, কারণ রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ে এবং আমদানি চাহিদা কিছুটা কমে। এ বছরের অক্টোবর মাসে আবার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন হয়। ডিসেম্বর মাসে কিছুটা পতনের পরও সেটা ২৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রিজার্ভ আবার ৩৩.১৮ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

৩. একমুখী রপ্তানি নির্ভরতা: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ ৮৩-৮৫ % আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৬-৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২-৩%, হিমায়িত খাদ্য/মাছ ১-২%, ওষুধ ১-২%, পাট ও পাটজাত পণ্য ১-২% এবং অন্যান্য খাত থেকে আরো ৬-৮% আয় হয়। যদিও এই খাত দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তবুও একক খাতের (৮০%) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক চাহিদা কমে গেলে বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে।

৪. ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। শিল্পায়ন, বাণিজ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (ঝগঊ), রেমিট্যান্স এবং সরকারি- বেসরকারি বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, সুশাসনের ঘাটতি, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিবারকেন্দ্রিক মালিকানা কাঠামোর মতো নানা কারণে এ খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার ১০ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেছে এবং মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে একাধিক ব্যাংক। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং অর্থনীতির প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাতের টেকসই পুনর্গঠন ও আস্থার পুনরুদ্ধার এখন সময়ের দাবি।

৫. বেকারত্ব ও দক্ষতার ঘাটতি: দেশে সামগ্রিক বেকারত্ব হার ৩.৫-৪.৫%। তবে যুব বেকারত্ব (১৫-২৪ বছর) ১০-১২%, আর উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। তবে সংখ্যায় বেকারত্ব কম হলেও মানসম্মত চাকরির ঘাটতি বেশি। শিক্ষাব্যবস্থা ও বাজারের চাহিদার অমিল, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের বড় অংশ চাকরি না পাওয়া, টেকনিক্যাল/ভোকেশনাল দক্ষতার অভাব এর অন্যতম কারণ। এছাড়া আইটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমেশন, উচ্চমূল্য টেক্সটাইল খাতে দক্ষ জনবল কম। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই দক্ষ শ্রমিকের অভাবের কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানো হলেও বেশিরভাগই স্বল্পদক্ষ। যুব জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় সম্পদ। কিন্তু দক্ষতার ঘাটতি ও শিল্পখাতের সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এতে শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধি হয়ে সামাজিক হতাশা বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতা করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি।

৬. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ১৯৭০-২০২৫ পর্যন্ত নদীভাঙনে কোটি মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল: যশোর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসতির ক্ষতি হয়েছে বেশি। আর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে খরা বাড়ছে। এতে ফসল উৎপাদন ও পানি সরবরাহে চাপ বেড়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৯ সালের আইলাসহ গত ২৫ বছরে বিভিন্ন বড় বড় কমপক্ষে ২০টি ঝড় হয়েছে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৩-৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৭. দুর্নীতি ও সুশাসনের সংকট: বাংলাদেশে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। দেশে সরকারি প্রকল্প ও বাজেটের দুর্নীতি বেশি হয়। সরকারি বড় প্রকল্পে বাজেটের অতিরিক্ত খরচ বা টাকা হাতবদল হয়। সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রকল্পের বাজেটের অনিয়ম। কিছু জায়গায় ঠিকাদার বা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন। সরকারি অফিসে সেবা পাওয়ার জন্য ঘুষের প্রয়োজন হয়। যেমন-ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন, সরকারি চাকরি নিয়োগে ঘুষ দিতে হয়। এর কারণে সঠিক যোগ্যতা থাকা ব্যক্তির সুযোগ হারান এবং দুর্নীতিবাজরা সুবিধা পান।

উত্তরণের কার্যকর উপায়:

১. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, আইটি, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে সফটওয়্যার ও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং ঝুঁকি কমবে।

২. ব্যাংকিং খাত সংস্কার: ব্যাংকিং খাতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।

৩. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নীতি: মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জরুরি। উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং বাজার তদারকি জোরদার করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ভর্তুকি ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রয়োজন।

৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন: কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

৫. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও দক্ষ অভিবাসন: দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো সম্ভব। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ প্রয়োজন।

৬. ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) উন্নয়ন: ঝগঊ খাত কর্মসংস্থানের বড় উৎস। সহজ শর্তে ঋণ, প্রযুক্তি সহায়তা এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাতকে শক্তিশালী করা গেলে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হবে।

৭. অবকাঠামো ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন: টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নের মাধ্যমে লজিস্টিক খরচ কমানো সম্ভব।

৮. ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্ভাবন: ডিজিটাল লেনদেন ও ই-গভর্ন্যান্স সম্প্রসারণ করলে দুর্নীতি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনে সহায়তা দিলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

৯. কৃষি খাত আধুনিকীকরণ: আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সেচব্যবস্থা ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তুললে মূল্য সংযোজন বাড়বে।

১০. জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন: সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে সহায়তা গ্রহণ করে উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে রয়েছে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, অন্যদিকে রয়েছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। সঠিক নীতি, সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বাংলাদেশ যদি রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ব্যাংকিং সংস্কার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী দশকে দেশটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নই পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে। উপায়ের আহ্বায়ক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হামদুল্লাহ আল মেহেদী সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব উপাধক্ষ্য নুরুজ্জামান হীরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ বাপ্পি সরদার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসর ডঃ চৌধুরী হাসান, সোহরাওয়ার্দী বীর বিক্রম, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির আহবায়ক ডঃ মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, এনপিপির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সালু, গণধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হোসেন, বিজেপির মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মুহাম্মদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসর নজরুল ইসলাম, পুলিশ কর্মকর্তা ডিসি মাসুদুর রহমান, মেজর অবসর আনিসুর রহমান, মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম প্রমুখ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে