ত্রিশালে গভীর রাতে রাস্তায় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৪ মার্চ, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ত্রিশালে গভীর রাতে রাস্তায় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার

কাচা রাস্তা থেকে পাকা উন্নতি করণের সড়কে গভীর রাতে নিম্নমানের খোয়া ও সুরকী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছে ঠিকাদার মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ নামীয় প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও সচেতন মহল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে ঘুম ভাঙে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের। দায় এড়াতে নোটিশ প্রদানের দাবী দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর। তবে কোন প্রকার নোটিশ পায়নি বলে দাবী করেছেন মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ। এমন নিম্নমানের কাজের সন্ধ্যান মিলেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম এলাকায়।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্র জনায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির অর্থায়নে কাজটির বরাদ্ধ পায় মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তারাহুরো করে কাজ শেষ করতে গিয়ে গভীররাতে অন্যস্থান থেকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও সুরকী এনে লোক চক্ষুর আড়ালে রাস্তায় ব্যবহার করে। ফজরের নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লীরা বিষয়টি টের পেয়ে নিম্নমানের সামগ্রীগুলো সরিয়ে নিয়ে ভালো সামগ্রী ব্যবহারের কথা বলেন। এসময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দান-অনুদানের আশ্বাস ও ঘোষণা দিয়ে ভোররাতেই ওই খোয়ার উপরে বালু বিছিয়ে দেয়।

উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের ‘গুজিয়াম মোক্ষপুর’ রাস্তায় নিম্নমাণের ইটের খোয়া ব্যবহার করায় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নিরব ভূমিকায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নজরে দিলে ঘুম ভাঙে তাদের। দায় এড়াতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানায় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রোকন আল ইবনে মাহাদী। তবে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ঠিকাদারকে নোটিশ প্রদান বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের দুইজন কর্মকর্তার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।

রাস্তার কাজ সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি নির্মাণে একেবারেই নিম্নমানের খোয়া ও সুরকি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন ইতিমধ্যে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ বালুর সঙ্গে মিশিয়ে রাতের অন্ধকারে রাস্তার ফেলে তা দ্রুত বালু দিয়ে ডেকে ফেলে হয়।  গুজিয়াম গ্রামের নাজমুল ও চাঁন মিয়া বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য ঠিকাদার গভীর রাতে সালট নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করেছে। আমরা মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি অন্যকোন জায়গা থেকে ট্রাকভর্তী এ-সব নিম্নমানের খোয়া রাস্তায় বিছিয়ে দিচ্ছে। এলাকার কয়েকজন বাঁধা দিলেও ঠিকাদার আমাদের কথা শোনেননি। এই কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে ব্যাপক উদাসিনতা, তারা সুষ্ঠু তদন্ত দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। 

স্থানীয় কামরুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমরা স্থানীয় ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ছাড়া রাস্তা নির্মাণে নিম্নমাণের ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় লোকজন অনেকেই দেখেছে, তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।  মেসার্স কুদ্দুস এন্টারপ্রাইজ নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধীকারী কুদ্দুস বলেন, আরে ‘ভাই, এসব নিয়ে নিউজ করতে হবে না। আমি আপনার সাথে দেখা করে চা-পানের ব্যবস্থা করে দিবো।

সাংবাদিক ঠিকাদার এক হয়ে দ্রুত গতিতে কাজ এ গিয়ে নিতে হবে। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে নোটিশ করেছেন বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোনো নোটিশ পাইনি।  উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রোকন আল ইবনে মাহাদী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অল্প সময়ে সুযোগ পেয়েছে কিছু নিম্নমানের মাল ফেলে দিয়েছে। এটা দেখা মাত্রই আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে নোটিশ করেছি। ভাই যে টুকু সমস্যা হয়েছে দ্রুত তা ঠিক করা হবে। এ বিষয়ে নিউজ না করলে মনে হয় ভালো হবে বলে জানান উপ-সহকারী প্রকৌশলী।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি মাত্রা আপনাদের মাধ্যমে অবগত হইলাম। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন নিন্মমানের খোয়া পরিবর্তন করতে হয়ে । রাস্তার কাজ বন্ধ সহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে