কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা, লবণাক্ত ভূমিতে বার্লি চাষে সফল মনিরুল

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ৫ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা, লবণাক্ত ভূমিতে বার্লি চাষে সফল মনিরুল

এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারেই বার্লি চাষে সফলতা পেয়েছেন। এমনকি ঐ এলাকার কৃষকেরা আগে কখনো ভাবেননি, লবণাক্ত ভূমিতে বার্লি চাষ সম্ভব! সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন এ সাহসী কৃষক। রবি মৌসুমে নিজের এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বার্লি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। কৃষক মনিরুল ইসলাম, বাড়ি খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজিমুছা গ্রামে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সরিষা, গম ও অন্য ফসলের মাঝ এক খন্ড সবুজ বার্লির খেত যা সকলের নজর কাড়ছে। খেতের মাঝে টাঙানো আছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সাইনবোর্ড। সেখানে লেখা কৃষকের নাম এবং বারি বার্লি-৭ ও বারি বার্লি-১০ নামের দুটি জাত। কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান , জমিতে আগে গম চাষ করতাম। এবার কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শে প্রথমবার বার্লি চাষ করছি। তারা আমাকে বিনা মূল্যে বীজ, সার,কীটনাশক সহ সবকিছু দিয়েছে। শুরুতে ফলন হয় কি না একটু চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন ফলন দেইখে ভালো লাগছে। আশপাশের কৃষকেরাও দেখতে আসে আমার খেত। অনেকে বার্লির বীজও রাখতি বলিছে। পাইকগাছা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, এই এলাকায় এটিই প্রথম পরীক্ষামূলক বার্লি আবাদ। বারি বার্লি-৭ খাটো এবং ৯০-১০৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। আর বারি বার্লি-১০-এর উচ্চতা ৯০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার। এটি লবণাক্ত জমিতেও হেক্টরপ্রতি গড়ে ২ থেকে ২ দশমিক ৪ টন ফলন দেয় এবং ৮০ থেকে ৮৬ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করে। পাইকগাছার জন্য বারি বার্লি-১০ তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী বলে মনে হয়েছে তাঁর। তিনি আরও বলেন, অনুর্বর ও লবণাক্ত জমিতে স্বল্প খরচে বার্লি চাষ সম্ভব। পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং সেচ ছাড়াও ফলনে বড় তারতম্য দেখা যায় না। রবি মৌসুমে লবণাক্ততার কারণে যেখানে অন্য ফসল ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে বার্লি হতে পারে সম্ভাবনাময় বিকল্প। পরীক্ষামূলক আবাদ সফল হওয়ায় আগামী মৌসুমে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান। বারির গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা বীজ দিয়ে প্রায় ১৫০টি নতুন লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। সেগুলো বড় প্লটে পরীক্ষামূলকভাবে চাষের প্রস্তুতি চলছে। সফল হলে দ্রুত কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বার্লি উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে তাঁর আশা।  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই করতে কৃষকদের প্রচলিত চাষাবাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বিকল্প তৈরি করা জরুরি। দেশে বার্লির চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বার্লিভিত্তিক শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফসল খাদ্য ও পশুখাদ্য উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে