নওগাঁর মহাদেবপুরে কোর্টের ওয়ারেন্টমূলে আসামী ধরতে গিয়ে আসামীর বাড়ি দেখিয়ে দেয়ার জন্য ডেকে নেয়া আব্দুল হামিদ ওরফে ধলা (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসামী না হলেও হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে পুলিশের টানা হেঁচড়া ও লাথি মারার পর ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে থানা পুলিশ এসব অস্বীকার করে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে। ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। নিহত ধলা উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত রাইজুল ইসলামের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পূর্বরাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে বারু জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেসীর দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। তিনি ঢাকায় রিক্সা চালান। কয়েক দিন আগে বাড়ি এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহাদেবপুর থানার পাঁচজন পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে জানালা দিয়ে ডেকে অন্য আসামী এসলামের বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ লাথি দিয়ে টিনের গেট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় তিনি পালিয়ে গেলে পুলিশ তার বাবাকে আটক করে নিয়ে যায়। এমরানের ১১ বছরের ছেলেও দাদার সাথে যায়। এমরানের ছেলের বরাত দিয়ে নিহতের ছোট জামাই সোহেল রানা জানান, আব্দুল হামিদ পুলিশকে এসলামের বাড়ি দেখিয়ে দিলে এসলামকে পেয়েও পুলিশ তাকে আটক না করে কোর্ট থেকে জামিন নিতে বলেন। এসময় পুলিশ আব্দুল হামিদের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে তিনি যেতে অস্বীকার করেন। পুলিশ তাকে টানা হেঁচড়া করে ও লাথি মারে। এরপরই তিনি সড়কের উপর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আব্দুল হামিদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। গ্রামের শতাধিক মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ জনতা রাতভর সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই ঘটনার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মরদেহ নিহতের বাড়ির খলিয়ানে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকেই একটি চক্র বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠে। দফায় দফায় চলে বৈঠক। এরপরই নিহতের স্বজনেরা থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে আলোচনায় বসেন। নিহতের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম তার বাবার মৃত্যুতে তাদের কোন অভিযোগ নেই এবং মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে থানায় একটি লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আসাদুজ্জামান ও এএসআই আছির উদ্দিন ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। মোবইলফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধ আব্দুল হামিদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরসাথে থানা পুলিশের কোন সংযোগ নেই। পুলিশ তাকে হ্যান্ডকাপ লাগায়নি, টানা হেঁচড়াও করেনি, কিংবা লাথিও মারেনি। এবিষয়ে নিহতের পরিবারের কোন অভিযোগ নেই। তাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।