খুলনার আলোচিত ডাকবাংলোর মোড় সংলগ্ন এলাকায় ৪ মার্চ রাত সোয়া ৯ টার দিকে দুর্বৃত্তদের ৭ সদস্যের কিলিং মিশনে নিহত শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহ'র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাদ আসর রূপসা বাগমারা দারুস সালাম জামে মসজিদে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজের ইমামতি করেন মোস্তফা রশিদী সুজা মসজিদের খতিব মাওলানা মাবুদ। জানাজা শেষে বাগমারা আল আকসা মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মেয়ের সামনেই গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বাবাকে। ঈদের বাজার করতে এসে এভাবেই পরিবারের কাছ থেকে করুণভাবে বিদায় নিতে হলো রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহবায়ক মীনা মাসুম বিল্লাহকে। বুধবার (৪ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ডাকবাংলা মোড়ের বাটা বাজারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে নিজ বাড়িতে মাসুম বিল্লাহ'র মরদেহ আনা হলে চারিদিকে একটি শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী সহ অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ তাকে দেখতে আসে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। নিহত মিনা মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মীনা কামাল ওরফে ‘ফাটাকেষ্টোর’ ভাই। মাসুম বিল্লাহ বিএনপি'র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকারী ৭ জনের মধ্যে একজনকে জনতা ধাওয়া করে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে। তার নাম অশোক ঘোষ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ডাকবাংলোস্থ বাটা শোরুমের ভিতরে ৭ জন অস্ত্রধারীর একটি দল এসে মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। মরহুমার জানাজার নামাজে বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় উপস্থিতিদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি'র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপি'র সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মনা, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, রূপসা বাগেরহাট বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আনারুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন শেখ, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা রয়েল আজম, ইসমাইল হোসেন, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, নয়ন মোড়ল প্রমুখ। মৃত্যু কালীন সময়ে তিনি এক স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রহী রেখে গেছেন।