চাঁদপুরে ইলিশ ধ্বংসে আ.লীগের পর এখন বিএনপিও যুক্ত হয়েছে

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
চাঁদপুরে ইলিশ ধ্বংসে আ.লীগের পর এখন বিএনপিও যুক্ত হয়েছে

গত পহেলা মার্চ থেকে নদীতে জাটকাসহ সবধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা, নদীর পাড়ে জেলেদের দিয়ে অবাধে জাটকাসহ ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, আগে আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির দলীয় লোকজন নিষেধাজ্ঞা সময় নদীতে এবং নদীর পাড় ভাসমান আড়ত বসিয়ে জাটকা সহ ইলিশ ও অন্যান্য  মাছ নিধন এবং বেচা বিক্রি করছে। চাঁদপুর শহর এলাকার টিলা বাড়ি, কোড়ালিয়া চর,পুরান বাজার পুরাতন ফায়ার সার্ভিস ব্লকঘাট,রনাগোয়াল, দক্ষিণে দোকান ঘর, গুচ্ছগ্রাম খাল, শাখুয়া বহরিয়া, লক্ষ্ণীপুর চেয়ারম্যান ঘাট, হরিনা নন্দেশ খা খাল, নন্দীগো দোকান,বাখরপুর খাল ও চরসহ চাঁদপুর মেঘনার বিভিন্ন স্থান দিয়ে চলমান জাটকা মওসুমে মাছ নিধন এবং ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। অথচ সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা রক্ষায় নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এই কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে জেলেদেরকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪০ কেজি করে চার মাস চাল বিতরণ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে নিবন্ধিত জেলেরা দুই মাসের আগাম চাল পেয়ে গেছে।

সরজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,  চলতি অভিযানের এক সপ্তাহ না যেতেই সরকারি চালও খাচ্ছে আবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছও ধরছে অনেক জেলে।  তারা চাঁদপুর মেঘনায় অবৈধ জাল দিয়ে জাটকাসহ ইলিশ মাছ ধরা শুরু করে দিয়েছে। এদের পেছনে রাজনৈতিক সরকারদলের প্রভাব খাটানো হচ্ছে। দলীয়ভাবে এই অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা বা নির্দেশনা না থাকায় জাতীয় মাছ ইলিশ ধ্বংসে আওয়ামী লীগের পর এখন বিএনপির নামধারীরাও যুক্ত হয়েছে এই অপকর্মে। তাদের দলীয় পরিচয় থাকায় স্থানীয়ভাবে কেউ কিছু বলতে সাহস করছে না। খাল রাস্তায় বা আশেপাশে গ্রামের বাড়ি বাড়ি মাছ নিয়ে হকারী করে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সময় আহারিত মাছ বিক্রি হচ্ছে। নদীর পাড়ের চিহ্নিত চক্র জাটকা এবং ইলিশ মাছ ধরে বেড়ান। জাটকা ইলিশ শিকারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রশাসন এবং এই ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা নেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের।  এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আরও অভিযোগ রয়েছে,দায়সারা অভিযান পরিচালনার। জেলা পুলিশের থানা ও ফাঁড়ির তৎপরতা চোখে পড়ছে না। স্থানীয় পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সঠিক অভিযান হলে শহর গ্রামেগঞ্জের হাটবাজারে বা রাস্তার পাশে এই সময় নদীর মাছ দেখা পাওয়ার কথা না। অথচ অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে ইলিশ সহ জাটকা বিক্রি হচ্ছে। নদীতে ধরা হয় বলেই তা দেখা যাচ্ছে।দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা না থাকায় আর  এই সুযোগে আঁতাতকারী জয় বাংলা ধানের শীষের সুবিধাবাদীরা টাকা ইনকামের ধান্দা করছে।  জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এমনটি হবার কথা নয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে