ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাফার গুদামে কথিত এক বিএনপি নেতা ও হ্যান্ডলিং ঠিকাদারের প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা, এই দুই জেলায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলাররা ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) সম্পন্ন করে সময়মতো সার না পাওয়ায় কৃষকদের কাছে সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে সারের অভাবে দুই জেলার হাজার হাজার কৃষকের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বাফার গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার মোট ১২৬ জন বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী ইউরিয়া সার উত্তোলন করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তিত হতে শুরং করে। কালীগঞ্জের কথিত এক বিএনপি নেতা সিলেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহাজালাল কনস্ট্রাকশনের মালিক রাজু আহাম্মেদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হ্যান্ডলিং ঠিকাদারির সাব-কন্ট্রাক্ট গ্রহন করেন। এরপর থেকেই তিনি গুদাম এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সূত্র বলছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ইউরিয়া সার পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নানা ভাবে চাপের মুখে ফেলে টন প্রতি আনলোড খরচ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ টাকা আদায় করতে শুরু করেন। এতে করে পরিবহনকারীরা কার্যত জিম্মি অবস্থায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার এ গুদামে আনলোড হয়। সেই হিসেবে অতিরিক্ত এই অর্থ আদায়ের মাধ্যমে কথিত এই ঠিকাদার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতো কৌশলে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে তাদের ভাড়া করা ট্রাক কিংবা নিজস্ব পরিবহনে ইউরিয়া সার লোড দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে। ফলে ডিলাররা ডিও সম্পন্ন করেও সময়মতো সার উত্তোলন করতে পারছেন না।এ অবস্থায় ডিলাররা কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সার সরবরাহ করতে না পারায় ইরি-বোরো মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই জেলার কৃষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, সময়মতো জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে না পারলে চলতি মৌসুমে ইরি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এতে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ বাফার গুদামের ইনচার্জ ওহিদুর রহমান জানান, চলতি মাসে গুদাম থেকে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৬ জন ডিলার তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলনের জন্য পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত মাত্র ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডলিং ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে সারের কৃত্রিম সংকট ও অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংকট নিরসন না হলে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।